অস্বাভাবিক শুষ্ক আবহাওয়ায় ইন্দোনেশিয়ায় ছড়িয়ে পড়া বন ও পিটভূমির (জৈব পদার্থে ভরা জলাভূমির মাটি) আগুনের বিষাক্ত ধোঁয়াশা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াজুড়ে ছড়িয়েছে, জানিয়েছে ডাউন টু আর্থ। মালয়েশিয়ায় স্কুল বন্ধ করতে হয়েছে, আর বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তালিকায় বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বড় শহর এখন সিঙ্গাপুর। ধোঁয়াশা পৌঁছেছে ফিলিপাইনেও, আর আগুনকে জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণার দাবিতে ইন্দোনেশিয়াজুড়ে বিক্ষোভ হচ্ছে।
জুন থেকে চলা শুষ্ক আবহাওয়ার সঙ্গে জমি পরিষ্কারের আগুন মিলে এ পরিস্থিতি; কৃষি সম্প্রসারণের জন্য লাগানো আগুন আশপাশের বন আর পিটভূমিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। শুকনো, কার্বনসমৃদ্ধ পিট মাটি পুড়লে প্রচুর ধোঁয়া হয়, আর আগুন মাটির নিচে দীর্ঘ সময় জ্বলতে থাকে, নেভানো খুব কঠিন। শক্তিশালী এল নিনো আবহাওয়াকে আরও শুষ্ক করছে, আগুন নেভানোর মতো বৃষ্টিও আটকে দিচ্ছে।
স্বাধীন পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্ম নুসান্তারা অ্যাটলাসের হিসাবে সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত প্রায় ১৯ লাখ হেক্টর জমি পুড়েছে, যা সরকার নিশ্চিত করেনি। রয়টার্সের উদ্ধৃত ইন্দোনেশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত সাতটি প্রদেশে শ্বাসতন্ত্রের অসুখের ২ লাখ ৮৩ হাজারের বেশি ঘটনা রেকর্ড হয়েছে। জাভা দ্বীপের ব্রোমো তেঙ্গের সেমেরু জাতীয় উদ্যানে আগুন নেভাতে গিয়ে পাঁচজন মারা গেছেন বলে খবর।
১৬ অক্টোবর সিঙ্গাপুর ইন্দোনেশিয়ার সাতটি কোম্পানিকে সতর্কতামূলক নোটিশ দিয়েছে, যাদের জমির আগুন ধোঁয়াশার কারণ হতে পারে; ১৯ অক্টোবর আরও তিনটি যোগ হয়ে সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০। প্রতিবেশী দেশগুলোর সহায়তা নিতে ইন্দোনেশিয়া রাজি হয়েছে, তবে ব্যবস্থাপনা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। প্রতিবেদনটি ডাউন টু আর্থের নিজস্ব প্রতিবেদকের।
ছবি: Oliverlyc / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)
সূত্র: ডাউন টু আর্থ





মন্তব্য
(০)