ভারতের সর্বশেষ ইউরিয়া আমদানি দরপত্র তুলনামূলক কম দামে নিষ্পত্তি হয়েছে, যা বিশ্ববাজারে সারের খরচে স্বস্তির ইঙ্গিত বলে জানিয়েছে গ্লোবাল এগ্রিকালচার। ইন্ডিয়ান পটাশ লিমিটেড (আইপিএল) ২৩ সেপ্টেম্বর ১৭ লাখ টনের এই দরপত্র ডাকে; এর ১০ লাখ টন পশ্চিম উপকূলের ও ৭ লাখ টন পূর্ব উপকূলের বন্দরের জন্য। ভারত বিশ্বের সবচেয়ে বড় সার আমদানিকারক, তাই শেষ প্রান্তিকের দামের মাপকাঠি হিসেবে দরপত্রটির দিকে নজর ছিল।
এ বছর দামের ওঠানামা ছিল অস্বাভাবিক। ২০২৬ সালের শুরুতে ইরান সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যের গ্যাস ও সার সরবরাহ বিঘ্নিত হলে এপ্রিলে ভারতের ইউরিয়া আমদানির দাম টনপ্রতি ৯৫৯ ডলারে উঠেছিল। সরবরাহ স্বাভাবিক হতে থাকলে এবং চীনা রপ্তানিকারকেরা ফিরলে দাম কমে: জুনের দরপত্রে টনপ্রতি প্রায় ৪৪৫ থেকে ৪৪৯ ডলার, আগস্টে ৩৯০ থেকে ৩৯৪ ডলার। সেপ্টেম্বরের শেষে বিশ্ববাজারে দাম আবার কিছুটা বাড়তে শুরু করে।
সময়টা ভারতীয় কৃষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাঁরা এখন গম, সরিষা ও ছোলা বোনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বপন ও শুরুর বৃদ্ধির সময় এসব ফসলে ইউরিয়ার নাইট্রোজেন লাগে, তাই দাম যা-ই হোক নভেম্বর-ডিসেম্বরে চাহিদা বাড়বে।
ভারত কৃষকের কাছে নির্ধারিত ভর্তুকি দামে ইউরিয়া বেচে, আর আমদানি বা উৎপাদন খরচের সঙ্গে পার্থক্য সরকার বহন করে। তাই আমদানি সস্তা হলে ভর্তুকির চাপ কমতে পারে। তবে ব্যবসায়ী সূত্রের সতর্কতা, কম দামের সুফল চোখে পড়তে সাধারণত একটি পুরো মৌসুম লেগে যায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের দরপত্রের ফল বিশ্ববাজারে অনানুষ্ঠানিক মাপকাঠি হিসেবে কাজ করে। নিউট্রিয়েন, মোজাইক ও ইয়ারার মতো সার কোম্পানি এবং বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও তুরস্কের বড় ক্রেতারা ভারতের দরপত্র কোন দামে নিষ্পত্তি হলো তা দেখে নিজেদের দামের প্রত্যাশা ঠিক করে। ব্রাজিলের কৃষকদের জন্যও নাইট্রোজেনের দাম কমা বাড়তি উপকরণ খরচে কিছুটা স্বস্তি দেবে।
ছবি: SuSanA Secretariat / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: গ্লোবাল এগ্রিকালচার





মন্তব্য
(০)