২০২৭ সালের ৩১ মার্চের সময়সীমার পাঁচ মাস আগেই, ২০২৬ সালের ২৩ অক্টোবরের মধ্যে ১১ কোটি ফার্মার আইডি তৈরি করেছে ভারত। দেশটির কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান এই সাফল্যের কৃতিত্ব দিয়েছেন ডিজিটাল কৃষি মিশনের আওতায় কেন্দ্র, রাজ্য ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের যৌথ প্রচেষ্টাকে।
২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত এই মিশন কৃষির জন্য ডিজিটাল গণ-অবকাঠামো গড়ছে। ফার্মার আইডি হলো যাচাইকৃত কৃষক-তথ্যের সঙ্গে যুক্ত একটি অনন্য ডিজিটাল পরিচয়। এখন প্রতিটি সেবার জন্য কৃষককে আলাদা করে কাগজ জমা দিয়ে যাচাই হতে হয়, এই আইডি সব সেবার অভিন্ন ভিত্তি হবে।
এসব সেবার মধ্যে আছে আয় সহায়তা, প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ, শস্যবিমা, সারের ভর্তুকি, ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে সরকারি ক্রয় ও দুর্যোগ সহায়তা। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের কাছে প্রতিটি প্রকল্প মানে অফিস ও ব্যাংকে বারবার যাওয়া আর সুবিধা পেতে দেরি। অভিন্ন তথ্যভান্ডার কিষাণ ক্রেডিট কার্ডের ঋণ যাচাই সহজ করতে পারে, খরা বা বন্যার পর প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনায় যোগ্য কৃষক চিহ্নিত করতে সহায়তা করতে পারে এবং সরকারি ক্রয়ের অর্থ নিয়ে মধ্যস্বত্বভোগীদের সুযোগ কমাতে পারে।
মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ফার্মার আইডিভিত্তিক ব্যবস্থায় ছয় কোটির বেশি কৃষক ইতিমধ্যে সরাসরি সুবিধা পেয়েছেন। গ্লোবাল এগ্রিকালচার মনে করিয়ে দিয়েছে, তৈরি হওয়া আইডি আর সুবিধাভোগী কৃষক দুটি আলাদা মাপকাঠি: প্রথমটি নিবন্ধনের ব্যাপ্তি বোঝায়, দ্বিতীয়টি প্রকৃত ব্যবহার। দুটিকেই তথ্যের মানের সঙ্গে মিলিয়ে বিচার করতে হবে।
বিশ্লেষণে বর্গাচাষি ও আনুষ্ঠানিক মালিকানার কাগজ ছাড়া জমি চাষ করা কৃষকদের প্রশ্নও তোলা হয়েছে। জমির রেকর্ডনির্ভর ব্যবস্থায় তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করা কঠিন হতে পারে। উপসংহারে বলা হয়েছে, সুফল নির্ভর করবে নির্ভুল তথ্য, সংযুক্ত ব্যবস্থা এবং রাজ্য ও স্থানীয় অফিস প্ল্যাটফর্মটি কতটা কার্যকরভাবে চালায় তার ওপর।
সূত্র: Global Agriculture



মন্তব্য
(০)