হিমায়িত করে আবার গলানো ভ্রূণ থেকে ভিন্ন জাতের একটি ছাগলের গর্ভে ২৫ অক্টোবর জন্ম নিয়েছে দুটি সুস্থ বারবারি ছানা, একটি পুরুষ ও একটি মাদি। ভারতের মাখদুমে ভারতীয় কৃষি গবেষণা পরিষদের (আইসিএআর) কেন্দ্রীয় ছাগল গবেষণা প্রতিষ্ঠান এ খবর দিয়েছে। আইসিএআর একে দেশি ছাগলের সহায়ক প্রজনন প্রযুক্তিতে একটি মাইলফলক বলছে।
গবেষকেরা কয়েকটি প্রযুক্তি একসঙ্গে ব্যবহার করেছেন। একটি বারবারি দাতা ছাগলকে একসঙ্গে একাধিক ডিম্বাণু ছাড়ার চিকিৎসা দেওয়া হয়, তারপর ল্যাপারোস্কোপি, অর্থাৎ ছোট ছিদ্রের অস্ত্রোপচারে এক কোষের জাইগোট পর্যায়েই ভ্রূণ সংগ্রহ করা হয়। দুই কোষ পর্যায়ে সেগুলো ভিট্রিফিকেশন নামের দ্রুত হিমায়ন পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হয়।
গলানোর পর ভ্রূণগুলো বেড়ে চার কোষ পর্যায়ে পৌঁছায়, তখন ল্যাপারোস্কোপির সাহায্যে, ন্যূনতম কাটাছেঁড়ায় সেগুলো একটি সিরোহি জাতের ছাগলের গর্ভে দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, দুই ছানার মধ্যেই বারবারি জাতের বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট, অর্থাৎ হিমায়িত বারবারি ভ্রূণ সিরোহি ছাগল সফলভাবে গর্ভে ধারণ করেছে।
প্রতিষ্ঠানটির মতে, এত আগের পর্যায়ে ভ্রূণ হিমায়িত করা আর কম অস্ত্রোপচারে প্রতিস্থাপন দেশি ছাগলের সেরা জাত সংরক্ষণ ও সংখ্যা বাড়ানোর পথ খুলে দেয়। ভালো জাতের ছাগলের ভ্রূণ জমিয়ে রেখে পরে সাধারণ ছাগলের গর্ভে দেওয়া যায়, ফলে মূল্যবান পশুর বংশগুণ হারায় না এবং প্রাকৃতিক প্রজননের চেয়ে দ্রুত ছড়ানো যায়।
আইসিএআর এই সাফল্যকে দেশি ছাগলের জাত সংরক্ষণ ও জিনগত উন্নয়নে আধুনিক প্রজনন জৈবপ্রযুক্তি কাজে লাগানোর একটি ধাপ হিসেবে দেখছে।
ছবি: Indusgf / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: আইসিএআর





মন্তব্য
(০)