জাম্বিয়ার ইস্টার্ন প্রদেশে আন্তর্জাতিক প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইএলআরআই (ILRI) এমন একটি প্রকল্প চালাচ্ছে, যেখানে খামারিদের গোখাদ্য চাষ আর ফসলের অবশিষ্টাংশ পশুখাদ্য হিসেবে মজুত করা শেখানো হচ্ছে, যাতে চারণভূমি শুকিয়ে গেলেও পশুর ওজন ও দাম না কমে। খবরটি প্রথম ছাপে টাইমস অব জাম্বিয়া, পরে আইএলআরআই তা প্রকাশ করে।
আইএলআরআইয়ের গবেষণা সহযোগী থেম্বিনকোসি বালেনি (Thembinkosi Baleni) বলেন, বারবার খরায় প্রাকৃতিক ঘাস ও পানির উৎস ফুরিয়ে যাওয়া গ্রামের পরিবারগুলোর জন্য জলবায়ুর সবচেয়ে বড় ঝুঁকিগুলোর একটি। কর্মসূচির লক্ষ্য ১০টি গোখাদ্য সমবায় গড়া; এ পর্যন্ত দুটি গঠিত হয়েছে এবং টেকসই পশুপালনের প্রশিক্ষণ পেয়েছে। তাঁর মতে, গোখাদ্য চাষ খরার সময় পশুকে, অর্থাৎ পরিবারের সম্পদকে রক্ষা করে, আর পশু মোটাতাজাকরণ, খাদ্য উৎপাদন কেন্দ্র এবং ঘাস ও শস্যবীজের ব্যবসা থেকে বাড়তি আয়ের পথ খোলে।
বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাতে প্রকল্পটি "লিড ফার্মার" পদ্ধতি নিয়েছে। প্রদেশের ১০টি জেলায় গোখাদ্য উৎপাদন ও পশুখাদ্য দেওয়ার ওপর ২০টি কৃষক মাঠ স্কুল গড়া হচ্ছে। বাছাই করা কৃষকেরা ঘাস চাষ, ফসলের অবশিষ্টাংশ মেশানো ও খাদ্য মজুতের প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজ এলাকার অন্য কৃষকদের শেখাবেন। প্রকল্প ভেলভেট বিন, অড়হর ও রোডস ঘাসের বীজও দিচ্ছে, যা চাষ করে কেটে আঁটি বাঁধা যায়।
কাজটি চলছে সরকারের নিজস্ব সম্প্রসারণ ব্যবস্থার মাধ্যমে। চিপাটায় প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন বিভাগের প্রাণিসম্পদ টেকনিশিয়ান মেবিন বান্ডা (Maybin Banda) জানান, বিভাগ জনবল দেয়, আর প্রকল্প দেয় জ্বালানি ও ভাতা। প্রথমে বিভাগীয় প্রধানদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, তাঁরা শেখান মাঠপর্যায়ের সম্প্রসারণকর্মীদের, যাঁরা কৃষক খুঁজে বের করে ঘাস কাটা, আঁটি বাঁধা ও পশুকে খাওয়ানো শেখাতে থাকেন।
বান্ডা বলেন, প্রকল্পটি একটি মৌসুমি সমস্যার জবাব। খামারিরা প্রাকৃতিক চারণের ওপর নির্ভর করেন, কিন্তু চারণভূমি ফসলের জমিতে চলে যাচ্ছে, আর গরমের মৌসুমে ঘাস ফুরিয়ে যায়। তাঁর এলাকায় ব্যাপারীরা পশুর শরীরের অবস্থা দেখে দাম ঠিক করেন, তাই কম খাওয়া পশুর দাম অনেক পড়ে যায়। সম্প্রসারণকর্মীরা এখন কৃষকদের বলছেন, ফসল তোলার পর ভুট্টার নাড়া পোড়াবেন না, চিনাবাদামের লতাও খেতে ফেলে রাখবেন না; সংগ্রহ করে আঁটি বেঁধে রাখুন অভাবের মাসের জন্য।
ছবি: Amanita Phalloides / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: ILRI





মন্তব্য
(০)