সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১০ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৫°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৮৮%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়েস্টার্ন কেপে লেবু বাগানে ড্রোন দিয়ে নজরদারি ও সেচ ব্যবস্থাপনা

দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়েস্টার্ন কেপ অঞ্চলের একটি লেবু বাগানে ড্রোন উড়িয়ে পুরো বাগানের ওপর নজর রাখা হচ্ছিল; ড্রোনের তোলা ছবি বিশ্লেষণ করে খরার মধ্যে সেচ, ফসলের অবস্থা ও বেড়ার মতো সমস্যা আগেভাগে ধরা যাচ্ছিল বলে বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে জানানো হয়।

দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়েস্টার্ন কেপে লেবু বাগানে ড্রোন দিয়ে নজরদারি ও সেচ ব্যবস্থাপনা
এগ্রোটেক

দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়েস্টার্ন কেপ অঞ্চলে ড্রোন ব্যবহার করে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা চলছিল। বিবিসি বাংলা ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। বিবিসির সংবাদদাতা তুরাই মাদুনা গিয়েছিলেন ফার্স্ট ফ্রুট গ্রুপ নামের একটি লেবু বাগানে, যার বেশির ভাগ লেবু রপ্তানি হয় মধ্যপ্রাচ্যে আর বাকিটা যায় স্থানীয় সুপার মার্কেটে। সেখানে নিয়মিত মাথার ওপর দিয়ে ড্রোন উড়ে পুরো বাগানের ওপর নজর রাখছিল।

চোখের সীমা পেরিয়ে পুরো বাগানে নজর


বড় বাগানে একজন মানুষ দিনে কতটুকু জায়গা ঘুরে দেখতে পারবেন, তা নির্ভর করে চোখের সীমা আর সময়ের ওপর। ফার্স্ট ফ্রুট গ্রুপের প্রধান নির্বাহী হাইন গার্বার বিবিসিকে বলেন, "সাধারণত আপনার যতদূর চোখ যাবে আপনি তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। সময়েরও একটা ব্যাপার আছে। এই দুটি বিষয়ের উপর নির্ভর করবে আপনি দিনে আপনার বাগানের নির্দিষ্ট কতটুকুর উপর নজর রাখতে পারবেন। কিন্তু ধরুন বাগানের অন্য কোন অংশে আপনার যাওয়া হলো না আর সেখানে কোন সমস্যা হয়ে গেলো।"

দূর থেকে চালানো ছোট এই উড়ন্ত যন্ত্র সেই সমস্যারই সমাধান দিচ্ছিল। দক্ষিণ আফ্রিকায় এই প্রযুক্তির উদ্যোক্তারা জানান, খামারের বেড়া কোথাও ভেঙে গেছে কি না, কোথায় পানির অভাবে ফসল শুকিয়ে যাচ্ছে, কোন অংশে ফলন কম হয়েছে কিংবা কোথায় মাটির অবস্থা কেমন, সবই ড্রোনের তোলা ছবিতে উঠে আসে। সেই তথ্য প্রতিদিন কম্পিউটারে পৌঁছায়, যা নিয়মিত বিশ্লেষণ করা যায়। হাইন গার্বার জানান, ড্রোন ব্যবহার করে তাঁর খামার বেশ উপকৃত হচ্ছে।

কৃষিকাজে ব্যবহৃত ড্রোন ফসলের বৃদ্ধির ধাপ, ফসলের স্বাস্থ্য ও মাটির তারতম্য সম্পর্কে তথ্য দেয়। অনেক ড্রোনে মাল্টিস্পেকট্রাল সেন্সর থাকে, যা খালি চোখে দেখা আলোর বাইরের নিয়ার-ইনফ্রারেডসহ বিভিন্ন তরঙ্গের ছবি তোলে; আবার কোনো কোনো ড্রোনে বালাইনাশক ছিটানোর যন্ত্রও লাগানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি স্ট্রবেরি খামারের ওপর বিশেষ যন্ত্রযুক্ত একটি ড্রোনের স্বয়ংক্রিয় উড্ডয়ন তদারক করছেন এর চালক। ছবি: Trusted user53 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি স্ট্রবেরি খামারের ওপর বিশেষ যন্ত্রযুক্ত একটি ড্রোনের স্বয়ংক্রিয় উড্ডয়ন তদারক করছেন এর চালক। ছবি: Trusted user53 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

খরার মধ্যে সেচ ব্যবস্থাপনায় ড্রোনের ছবি


ওয়েস্টার্ন কেপ অঞ্চলের খামারগুলোকে ড্রোন সেবা দিচ্ছিল কেপটাউনের প্রতিষ্ঠান অ্যারোবটিকস, যারা ড্রোনের তোলা ছবি বিশ্লেষণ করে। সিএনএন মানির ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেপটাউনের কাছে একটি ফলের খামারে বেড়ে ওঠা জেমস প্যাটারসন সহপ্রতিষ্ঠাতা বেনজি মেলৎজারকে নিয়ে ২০১৪ সালে নিজের গ্যারেজে ড্রোন বানানো শুরু করেন। প্রতিষ্ঠানটি স্যাটেলাইট, ড্রোন ও মোবাইল ফোনের ছবি কম্পিউটারে বিশ্লেষণ করে অ্যারোভিউ নামের অ্যাপে ফসলের স্বাস্থ্যের তথ্য দেয়, যা রোগ, পোকামাকড় এবং পানি বা পুষ্টির অভাবজনিত সমস্যা চিহ্নিত করতে পারে।

অ্যারোবটিকসের প্রধান নির্বাহী জেমস প্যাটারসন বিবিসিকে বলেন, "এই মুহূর্তে মাটির আর্দ্রতা রক্ষা করা এই অঞ্চলের জন্য সবচাইতে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ওয়েস্টার্ন কেপ অঞ্চলে এই মুহূর্তে খরা বিরাজ করছে। বাগানগুলো তাই সঠিকভাবে সেচ ব্যবস্থাপনার চেষ্টা করছে।" তিনি জানান, কোন অংশে কম সেচ দেওয়া হয়েছে এবং কোথায় কতটা ফলন হলো, তা ড্রোনের ছবিতে বোঝা যায়, ফলে সমস্যা বড় হওয়ার আগেই ধরা পড়ে।

সেই খরা শুরু হয়েছিল ২০১৫ সালে, আর ২০১৭ সাল ছিল ১৯৩৩ সালের পর সবচেয়ে শুষ্ক বছর। ২০১৭ সালের মে মাসে কেপটাউনের পানির উৎস বাঁধগুলোতে ধারণক্ষমতার মাত্র ২১ দশমিক ২ শতাংশ পানি ছিল।

২০১৮ সালে প্রায় শুকিয়ে যাওয়া থিওয়াটার্সক্লুফ বাঁধের একাংশ; সাধারণত পানির নিচে থাকা গাছের গুঁড়ি ও বালু বেরিয়ে পড়েছে। ছবি: Zaian / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
২০১৮ সালে প্রায় শুকিয়ে যাওয়া থিওয়াটার্সক্লুফ বাঁধের একাংশ; সাধারণত পানির নিচে থাকা গাছের গুঁড়ি ও বালু বেরিয়ে পড়েছে। ছবি: Zaian / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার ইউমায় সেচ দেওয়া একটি জাম্বুরা (গ্রেপফ্রুট) বাগানে মাটির আর্দ্রতা পরীক্ষা করছেন দুই ভূমি সংরক্ষণকর্মী। ছবি: Jeff Vanuga, USDA Natural Resources Conservation Service / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার ইউমায় সেচ দেওয়া একটি জাম্বুরা (গ্রেপফ্রুট) বাগানে মাটির আর্দ্রতা পরীক্ষা করছেন দুই ভূমি সংরক্ষণকর্মী। ছবি: Jeff Vanuga, USDA Natural Resources Conservation Service / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)

আফ্রিকার কৃষিতে ড্রোনের সম্ভাবনা ও বাধা


জাতিসংঘের ২০১৭ সালের বিশ্ব জনসংখ্যা প্রক্ষেপণ অনুযায়ী ২০৫০ সালে পৃথিবীর জনসংখ্যা দাঁড়াবে ৯ দশমিক ৮ বিলিয়নে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) ২০০৯ সালে হিসাব দিয়েছিল, ২০৫০ সালের বাড়তি জনগোষ্ঠীকে খাওয়াতে খাদ্য উৎপাদন ৭০ শতাংশ বাড়াতে হবে। এতে আফ্রিকার ভূমিকা বড়: আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংকের 'ফিড আফ্রিকা' কৌশলপত্র বলছে, পৃথিবীতে এখনো চাষ না হওয়া আবাদযোগ্য জমির ৬৫ শতাংশ এই মহাদেশে।

খামারিরা যাতে মোবাইল ফোনের অ্যাপ দিয়ে নিজেরাই এসব ড্রোন চালাতে পারেন, সে ব্যবস্থা চালুর চেষ্টাও চলছিল। তবে ইন্টারনেটের গতি তখনো বড় বাধা ছিল। জেমস প্যাটারসন বলেন, "আফ্রিকা ভিত্তিক হওয়ার একটি বিষয় হলো সব যায়গায় আমরা ভালো ইন্টারনেট পাইনা। আমরা যে তথ্য সংগ্রহ করি সেটি ক্লাউড ভিত্তিক।" ইন্টারনেটের অভাবে সংগৃহীত তথ্য সব সময় দ্রুত গ্রাহকের কাছে পৌঁছানো যায় না, যদিও পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে বলে তিনি জানান।

ড্রোনের মতো প্রযুক্তি তরুণ প্রজন্মের কাছে কৃষিকে আকর্ষণীয় করে তুলবে বলেও মনে করা হচ্ছিল। প্রযুক্তিনির্ভর এই চাষাবাদকে বলা হচ্ছিল স্মার্ট ফার্মিং।

দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়েস্টার্ন কেপ প্রদেশের সিট্রাসডালের একটি সাধারণ দৃশ্য; এলাকাটির কৃষিতে লেবুজাতীয় ফলের চাষই প্রধান। ছবি: Danie van der Merwe / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়েস্টার্ন কেপ প্রদেশের সিট্রাসডালের একটি সাধারণ দৃশ্য; এলাকাটির কৃষিতে লেবুজাতীয় ফলের চাষই প্রধান। ছবি: Danie van der Merwe / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)

ছবি: Trusted user53 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: বিবিসি বাংলা, সিএনএন মানি, জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ক বিভাগ (ইউএন ডেসা), জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক, উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

এগ্রোটেক

সম্পর্কিত খবর

লাইভস্টক

কৃত্রিম প্রজনন প্রযুক্তিতে গরুর জাত উন্নয়ন, দক্ষিণ আফ্রিকার সাধারণ খামারিদের পাশে বিশ্ববিদ্যালয়

কৃত্রিম প্রজনন, গরুর গরম আসা একসঙ্গে মেলানো আর প্রজননের হিসাব রাখার প্রযুক্তি দক্ষিণ আফ্রিকার কোয়াজুলু-নাটালের ৩৩ জন সাধারণ খামারির কাছে নিয়ে যাচ্ছে মাঙ্গোসুথু ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি; রয়্যাল শোর নতুন প্রযুক্তি কেন্দ্রে কাজটি তুলে ধরা হয়।

ফার্মার্স উইকলি সাউথ আফ্রিকা১০ অক্টোবর ২০২৬৩ মিনিটের পড়া
মৎস্য

সরপুঁটির কৃত্রিম প্রজনন ও পোনা উৎপাদনের প্রযুক্তি উদ্ভাবন করল ভারতের সিফে

মুম্বাইয়ের বিজ্ঞানীরা আবদ্ধ অবস্থায় সরপুঁটির মা-বাবা মাছ তৈরি, হরমোন দিয়ে ডিম ছাড়ানো এবং ঘরের ভেতরে লার্ভা লালনের পূর্ণাঙ্গ প্যাকেজ তৈরি করেছেন। দেশি ছোট মাছের চাষে এটি পোনার নির্ভরযোগ্য উৎস হতে পারে।

আইসিএআর১০ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফসল

আফ্রিকার বিজ্ঞানীদের জন্য ভারতে তিন মাসের মিলেট গবেষণা ও জিনোমিক প্রজনন প্রশিক্ষণ

মহর্ষি উদ্যোগের আওতায় ডিসেম্বর থেকে হায়দরাবাদের আইসিএআর-আইআইএমআরে আফ্রিকার তরুণ ও মধ্যম পর্যায়ের গবেষকেরা জিনোমিক প্রজনন, ফিনোটাইপিং, বায়োফর্টিফিকেশন ও মিলেটের মূল্যশৃঙ্খল নিয়ে প্রশিক্ষণ নেবেন।

অ্যাগ্রোস্পেকট্রাম১০ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)