ভারতের উত্তরাখণ্ডে গাড়ি ও পর্যটকের ভিড়ের মধ্যে হিমালয়ের মোনাল পাখি তার ডাকের সুর চড়াচ্ছে। হেমবতী নন্দন বহুগুণা গাড়োয়াল বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজীব লোচন, দীনেশ কুমার শর্মা ও আনন্দ কুমার ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে এক বছর কেদারনাথ কস্তুরী মৃগ অভয়ারণ্যের দুই উপত্যকায় রেকর্ডার বসিয়ে মোনালের সাত শতাধিক ডাক সংগ্রহ করেন।
দেখা গেছে, সারা বছর পর্যটক ও গাড়ির ভিড়ে থাকা চোপতায় মোনাল ডাকছে উঁচু কম্পাঙ্কে এবং ডাক ছোট হয়ে এসেছে; তুলনায় নিরিবিলি মদমহেশ্বরের সঙ্গে তফাত স্পষ্ট। গাড়ি ও ভিড়ের নিচু সুরের শব্দে যেন চাপা না পড়ে, সে জন্যই এই বদল। তবে রাজীব লোচন সাবধান করেছেন, প্রজাতিটির গলা স্থায়ীভাবে বদলে গেছে বলার সময় আসেনি।
একই দলের আরেক গবেষণায় জলবায়ু মডেল ধরে দেখা হয়েছে, ২১০০ সাল নাগাদ উত্তরাখণ্ড ও হিমাচলে পাখিটির বাসযোগ্য এলাকা ছোট ও অস্থির হবে। আইইউসিএনের লাল তালিকায় মোনাল এখনো ন্যূনতম উদ্বেগের প্রজাতি।
ঢাকার পরিস্থিতি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক আশিকুর রহমান সমী বলেন, হর্ন, জেনারেটর ও নির্মাণযন্ত্রের শব্দে পাখির ডাক চাপা পড়ছে এবং অনেক পাখি চেনা জায়গা ছেড়ে গেছে। খড়-ঘাস না পেয়ে পাখি পলিথিন, সুতলি ও প্লাস্টিকে বাসা বাঁধছে, যেখানে গরম আটকে থাকে এবং সুতায় ছানার পা জড়িয়ে যায়। জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির ২০২২ সালের প্রতিবেদনে ঢাকা ছিল বিশ্বের সবচেয়ে শব্দদূষিত শহর, মাত্রা ১১৯ ডেসিবেল।
বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ইনাম আল হক বলেন, পাখির স্বভাব বদলাচ্ছে কি না তা তিনি জানেন না, কারণ এ দেশে এ নিয়ে গবেষণাই হয়নি। তিনি মনে করিয়ে দেন, ডাইক্লোফেনাক শকুন মারছে তা নিশ্চিত জানা ছিল বলেই ওষুধটি নিষিদ্ধ করা গেছে; অথচ প্যারাপাখি কেন কমছে তা জানা নেই। পৃথিবীতে হয়তো তিনশর মতো প্রাপ্তবয়স্ক প্যারাপাখি টিকে আছে, যার বড় অংশ বাংলাদেশের সুন্দরবনে।
আইইউসিএনের ২০১৫ সালের মূল্যায়নে দেশে ৫৬৬ প্রজাতির পাখির হিসাব মেলে, গত এক শতকে হারিয়েছে ১৯টি। সমী চান প্রকল্পের মেয়াদে না বাঁধা দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণ, শহরের নকশায় দেশি গাছ ও জলাশয়ের জায়গা এবং শব্দদূষণ আইনের প্রয়োগ। টাঙ্গুয়ার হাওরে কয়েক বছরে শতাধিক হাউসবোট নেমেছে; চলতি বছরের আগস্টে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন হাওরের সংকটাপন্ন এলাকায় হাউসবোট চলাচল বন্ধ করেছে।
ছবি: H005 / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: সমকাল





মন্তব্য
(০)