জলবায়ু নীতিতে স্বাস্থ্যকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, সেই মাপকাঠিতে ভারতের সর্বশেষ জাতীয় জলবায়ু পরিকল্পনা ৩২-এর মধ্যে পেয়েছে মাত্র ২, জাপান ও নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে যৌথভাবে সবার নিচে। ৩০০-র বেশি স্বাস্থ্য পেশাজীবী ও নাগরিক সংগঠনের জোট গ্লোবাল ক্লাইমেট অ্যান্ড হেলথ অ্যালায়েন্সের (Global Climate and Health Alliance) তৃতীয় 'হেলদি এনডিসি স্কোরকার্ড'-এ এ তথ্য উঠে এসেছে, জানিয়েছে ডাউন টু আর্থ।
প্যারিস চুক্তির অধীনে দেশগুলোর জমা দেওয়া জলবায়ু পরিকল্পনা, অর্থাৎ জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি), মূল্যায়ন করা হয়েছে সেই ১৩২টি দেশের, যারা জাতিসংঘের জলবায়ু সচিবালয়ে ২০৩৫ সালের লক্ষ্য জমা দিয়েছে। আটটি সূচক, প্রতিটিতে সর্বোচ্চ ৪: স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব, বায়ুদূষণ, স্বাস্থ্য খাতে পদক্ষেপ, স্বাস্থ্যগত সহ-সুফল, ন্যায্য রূপান্তর, সমন্বিত শাসন, অর্থনীতি ও অর্থায়ন এবং পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন। এপ্রিলে জমা দেওয়া ভারতের এনডিসি ছয়টিতে শূন্য এবং স্বাস্থ্য খাতে পদক্ষেপ ও সমন্বিত শাসনে এক করে পেয়েছে।
২৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে কলম্বিয়া, এরপর নাইজেরিয়া ২৫ ও কম্বোডিয়া ২৪; প্যারাগুয়ে ও তিমুর-লেস্তে ২২ করে। শীর্ষ ২০ দেশের ১৯টিই নিম্ন ও মধ্যম আয়ের। প্রতিবেদন বলছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন, ব্রাজিল ও যুক্তরাজ্য পরিকল্পনায় স্বাস্থ্যের কথা বললেও স্বাস্থ্য রক্ষায় যতটা নিঃসরণ কমানো দরকার, তা করেনি। জলবায়ু উষ্ণ করে এবং স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে এমন দূষক ব্ল্যাক কার্বন কমানোর লক্ষ্য রেখেছে মাত্র পাঁচটি দেশ: কম্বোডিয়া, চিলি, কলম্বিয়া, কোস্টারিকা ও প্যারাগুয়ে।
প্রতিবেদনের হিসাবে ভারতে বায়ুদূষণে প্রতি এক লাখে ১৮৬.২ জনের মৃত্যু হয়, অথচ দেশটির এনডিসিতে বায়ুদূষণের কোনো উল্লেখ নেই; দেশটি প্রাক-শিল্প যুগের তুলনায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি উষ্ণতার পথে রয়েছে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। ১৯৯৫ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময় নিয়ে তৈরি ক্লাইমেট রিস্ক ইনডেক্স ২০২৬-এ ভারত নবম।
দিল্লির সেন্টার ফর সায়েন্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের নির্বাহী পরিচালক (গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি) অনুমিতা রায়চৌধুরী (Anumita Roychowdhury) ডাউন টু আর্থকে বলেন, ভারতে বায়ুদূষণে বছরে প্রায় ২০ লাখ মানুষের প্রাণ যায়, তবু এনডিসিতে বায়ুদূষণ বা জলবায়ু পদক্ষেপের স্বাস্থ্যগত সুফলের উল্লেখ না থাকা অবোধ্য। তিনি মনে করিয়ে দেন, কপ২৮-এর জলবায়ু ও স্বাস্থ্য ঘোষণায় ভারত সমর্থন দিয়েছিল। পুনের ফ্লেম বিশ্ববিদ্যালয়ের জননীতির অধ্যাপক ও আইপিসিসির প্রতিবেদন লেখক অঞ্জল প্রকাশ (Anjal Prakash) বলেন, পরের এনডিসিতে স্বাস্থ্য সূচক, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ওপর জলবায়ুর প্রভাবের মূল্যায়ন, স্বাস্থ্য অবকাঠামোর সহনশীলতা এবং বায়ুর মান উন্নয়নের ব্যবস্থা থাকা উচিত।
২০২৬ সালের নভেম্বরে তুরস্কের আন্তালিয়ায় কপ৩১ সম্মেলনে স্বাস্থ্য বড় বিষয় হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনটি লিখেছেন ডাউন টু আর্থের জয়ন্ত বসু (Jayanta Basu)।
ছবি: NASA/GSFC/LaRC/JPL, MISR Team / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: ডাউন টু আর্থ



মন্তব্য
(০)