ভারতের হরিয়ানা রাজ্য সরকার ২০২৬-২৭ মাড়াই মৌসুমের জন্য আখের রাজ্য নির্ধারিত দাম (এসএপি) কুইন্টালে ১৫ রুপি বাড়িয়ে ৪৩০ রুপি করেছে। ২০২৭-২৮ মৌসুমে আরও ২০ রুপি বাড়িয়ে ৪৫০ রুপি করার ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে। দুই মৌসুমে মোট বাড়ছে ৩৫ রুপি।
বৃহস্পতিবার নতুন দাম ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী নায়াব সিং সাইনি। তিনি বলেন, দুই বছরের এই বৃদ্ধি কৃষকদের বাড়তি খরচ সামলাতে সাহায্য করবে, আর আগাম দাম জানা থাকলে তাঁরা চাষের পরিকল্পনা করতে পারবেন।
কৃষক সংগঠনগুলো কুইন্টালে অন্তত ৫০০ রুপি দাবি করে আসছিল। তাদের যুক্তি ছিল চাষের খরচ, চিনির দাম এবং ইথানলসহ আখজাত পণ্যের মূল্য বেড়েছে। তারা এই বৃদ্ধিকে অপর্যাপ্ত ও হতাশাজনক বলেছে।
ভারতীয় কিষান ইউনিয়নের (চারুনী) মুখপাত্র রাকেশ বেইনস বলেন, কুইন্টালে ১৫ রুপি মানে কেজিতে মাত্র ১৫ পয়সা, যা বাড়তি খরচের তুলনায় কিছুই না। তাঁদের দাবি ছিল কুইন্টালে ৬০০ রুপি। ভারতীয় কিষান ইউনিয়নের (টিকায়েত) হরিয়ানা শাখার সভাপতি রতন মান বলেন, চিনি যেখানে কেজিতে ৬৫-৭০ রুপিতে বিকোচ্ছে, সেখানে আখের দাম বেড়েছে মাত্র ১৫ পয়সা। তিনি সরকারকে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।
সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে কৃষক প্রতিনিধিরা ডিজেল, শ্রমিক ও সারের খরচ বাড়ার কথা তুলে ধরেছিলেন, যার ফলে আখ চাষের খরচ বেড়েছে।
আখের ঘাটতিতে ভারতে চিনির উৎপাদন কমেছে। চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় সরকারকে কাঁচা চিনি আমদানি এবং ইথানলে আখের রস ও সিরাপ ব্যবহার সীমিত করার কথা ভাবতে হয়েছে। এই অবস্থায় কৃষকদের আখ চাষে উৎসাহ দেওয়া সরকার ও চিনিশিল্প দুইয়ের জন্যই চ্যালেঞ্জ। রুরাল ভয়েসে প্রতিবেদনটি লিখেছেন অজিত সিং।
ছবি: Honza Soukup / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: Rural Voice





মন্তব্য
(০)