সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮আদা - আমদানিকৃত১৬৭আদা - দেশী১৫৪আমন চাল - মাঝারি৫৬আমন চাল - মোটা৪৮আমন চাল - সরু৭২আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২কাঁচা মরিচ২১৮খামারের মুরগী১৬২খাসী৯০০চিনি (দেশী)১৩২ছোলা - গোটা৮৫ডিম ফার্ম - লাল৪৭পেঁয়াজ - দেশী৬০বোরো চাল - মাঝারি৫৫বোরো চাল - মোটা৪৭বোরো চাল - সরু৬৬মাংসঃ– গরু৭২৯মুগ ডাল১২২রসুন - আমদানিকৃত১৯২রসুন - দেশী১৭৩সয়াবিন তেল১৬৩
হালনাগাদ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৯°মেঘলাআর্দ্রতা ৮৭%বাতাস কিমি/ঘ

এবারও ফসল হারানোর ভয় হাওরের কৃষকদের

সুনামগঞ্জ জেলায় বছরে একটি মাত্র ফসল হয়। এই জেলার প্রায় ৩০ লাখ মানুষ ওই একমাত্র বোরো ফসলের ওপর নির্ভরশীল। ২০১৭ সালে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ঠিকাদারদের সীমাহীন দুর্নীতির কারণে আগাম বন্যায় শতভাগ ফসল ডুবে নষ্ট হয়ে যায়। সেবার পুরো জেলায় খাবারের জন্য হাহাকার পড়ে যায়। এরপর ২০২২ সালেও আগাম

পরিবেশ

সুনামগঞ্জ জেলায় বছরে একটি মাত্র ফসল হয়। এই জেলার প্রায় ৩০ লাখ মানুষ ওই একমাত্র বোরো ফসলের ওপর নির্ভরশীল। ২০১৭ সালে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ঠিকাদারদের সীমাহীন দুর্নীতির কারণে আগাম বন্যায় শতভাগ ফসল ডুবে নষ্ট হয়ে যায়। সেবার পুরো জেলায় খাবারের জন্য হাহাকার পড়ে যায়। এরপর ২০২২ সালেও আগাম বন্যায় জেলার ১০ উপজেলায় ২৩টি বাঁধ ভেঙে কৃষকের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

মূলত ২০১৭ সালে শতভাগ ফসল নষ্ট হয়ে গেলে সরকার নড়েচড়ে বসে। এরপর সরকারের পক্ষ থেকে অতি গুরুত্বের সঙ্গে সুনামগঞ্জের হাওরের বাঁধের কাজের তদারকি করা হয় এবং বাঁধের কাজে বরাদ্দও বেশি দেওয়া হয়। প্রতি বছর বাঁধ নির্মাণ, সংস্কার ও মেরামতের কাজ ১৫ ডিসেম্বর শুরু হয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি শেষ হওয়ার কথা। এ বছরও ১৫ ডিসেম্বর কাজ শুরু হয় কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সব কাজ শেষ না হওয়ায় দ্বিতীয় দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে ৭ মার্চ নির্ধারণ করা হয়। ৭ মার্চও বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হয়েছে কিন্তু এই সময়ে এসেও শতভাগ কাজ শেষ হয়নি। আর এতেই আতঙ্কিত হাওরের কৃষকরা।

আরও পড়ুন- ব্যাংক ঋণে 'ভোগান্তি', এনজিওতে ঝুঁকছেন হাওরের কৃষক

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বাঁধের কাজ ৯০ থেকে ৯৫ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে বললেও হাওর নেতাদের দাবি এখন পর্যন্ত হাওরে ৬০ ভাগ কাজ হয়েছে।

গত কয়েক বছরের তুলনায় সরকার এবার সুনামগঞ্জের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজের পরিধি এবং বরাদ্দ বাড়িয়েছে। এ বছর ৭৪৫ কিলোমটিার দীর্ঘ বাঁধ নির্মাণ, সংস্কার ও মেরামতের কাজের জন্য ২০৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে যা গত বছর ছিল ১২৩ কোটি টাকা। ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ বাস্তবায়নের জন্য পিআইসি বা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়। এ বছর ১০৭৬টি পিআইসি কাজ করছে। তবে এই পিআইসি গঠন নিয়েও স্থানীয় কৃষক ও হাওর নেতাদের অভিযোগ রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ধর্মপাশার গাগলাখালি, শয়তানখালি, মধ্যনগরের আবিদনগর বাজার সংলগ্ন বাঁধ, জিনাইরা বাঁধ, তাহিরপুরের মহালিয়া হাওরের ১৯ ও ১৪ নম্বর প্রকল্প, মাটিয়ান হাওরের বনোয়া বাঁধ, জামালগঞ্জের হালির হাওরের পুরাতন গনিয়াখাড়া, দোয়ারাবাজারের নাইন্দার হাওরের ২, ২৮ ও ৩৫ নম্বর প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি। শাল্লায় ভান্ডা বিল হাওরের ৩৪ ও ভেড়া মোহনার দুটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁধ এবং জগন্নাথপুরের নলুয়ার হাওরের ১, ৯, ১০, ১১, ১৪ ও ১৮ নম্বর পিআইসির কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি।

বেশিরভাগ বাঁধ শক্তিশালী করতে বাঁশের আড় ও বস্তা দেওয়ার কোনো আলামত চোখে পড়েনি। এমনকি তাহিরপুর উপজেলার ৬৯, ৭০, ৭১, ৭২ প্রকল্পের মাটির কাজও শেষ হয়নি। এছাড়া বাঁধ টেকসইয়ে ঘাস ও দুরমুশের কাজও অবশিষ্ট আছে।

আরও পড়ুন- বাঁধের নামে কাটা পড়লো টাঙ্গুয়ার হাওরের ৫০ হিজল গাছ

কৃষকরা জানান, অসময়ে দেওয়া দুর্বল বাঁধ পানির বড় ধাক্কা সামলাতে পারবে না। বাঁধের মাটির কমপেকশন হওয়ার আগেই বৃষ্টিপাত শুরু হবে। বাঁধ তখন ধসে পড়ার বা ভাঙার আশংকা থাকবে। আমরা ধান ঘরে তোলা নিয়ে বড় চিন্তায় আছি।

মাটিয়ান হাওরের কৃষক রবি মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, মাটিয়ান হাওরে এখনো মাটি ফেলার কাজও শেষ হয়নি। কয়েকদিন পর বৃষ্টি শুরু হবে। এখন হাওরের ধান ঘরে তোলা নিয়ে চিন্তায় আছি।

হাওরের কৃষি ও কৃষকরক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সদস্য সচিব চিত্ত রঞ্জন তালুকদার বলেন, জেলাজুড়েই এমন অবস্থা। অনেক বাঁধেই দায়সারাভাবে মাটি ফেলে ঘাস লাগানোর কাজ শেষ না করেই প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি কাজ সমাপ্ত করে দিয়েছে। এটা সত্যি দুঃখজনক।

হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আবু সুফিয়ান জাগো নিউজকে বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে ৯৫ ভাগ কাজ শেষ হয়ে গেছে কিন্তু দুই দফা সময় বাড়িয়েও সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় হাওরে মাত্র ৬০ ভাগ কাজ হয়েছে। শুধু তাই নয়, হাওরের বাঁধে নিম্নমানের কাজ করায় এখন বৃষ্টি শুরু হলে বৃষ্টির পানিতেই বাঁধ ভেঙে যাবে।

আরও পড়ুন- যাদুকাটার তীরে টুকটুকে শিমুল বাগানে পর্যটকের ভিড়

তবে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জাগো নিউজকে বলেন, হাওরের বাঁধের কাজ শেষ পর্যায়ে। ৯৫ থেকে ৯৭ ভাগ কাজ শেষ হয়ে গেছে। আর ৩ থেকে ৪ দিনের ভেতরে হাওরের পুরো বাঁধের কাজ শেষ হয়ে যাবে।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে অতি গুরুত্বের সঙ্গে সুনামগঞ্জের হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজের তদারকি করা হচ্ছে। যদি বাঁধের কাজে কারো গাফিলতি থাকে বা অনিয়ম ধরা পড়ে তাহলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনগত শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জাগো নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

রোমে এফএওর ওয়ান হেলথ সম্মেলনে পরিবেশমন্ত্রী: পরিবেশ, প্রাণী ও জনস্বাস্থ্য আলাদা নয়

এফএও সদর দপ্তরে ২১-২৩ সেপ্টেম্বরের ‘কৃষিখাদ্য ব্যবস্থায় ওয়ান হেলথ কার্যক্রম’ বৈশ্বিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, গঙ্গা বদ্বীপে মানুষ, বাস্তুতন্ত্র ও কৃষিখাদ্য ব্যবস্থা নিবিড়ভাবে যুক্ত; বাংলাদেশের জাতীয় ওয়ান হেলথ কাঠামোয় পরিবেশ খাতকে মূল অংশীজন করা হয়েছে এবং রোমের অভি

চ্যানেল আই অনলাইন২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
ফসল

আবাদি জমির মাত্র ১২ শতাংশে বিশ্বের অর্ধেক ক্ষুদ্র কৃষকই ২০৫০-এ বাড়তি ১৫০ কোটি মানুষের খাদ্য জোগাতে পারেন: নতুন বই

‘হোল আর্থ ফার্মিং’ বইয়ে হাইতির স্মলহোল্ডার ফার্মার্স অ্যালায়েন্সের সহপ্রতিষ্ঠাতা হিউ লক (Hugh Locke) যুক্তি দিয়েছেন, গ্লোবাল সাউথের ৪৭ কোটি ৫০ লাখ ক্ষুদ্র খামারের প্রায় ২৪ কোটিকে পুনরুৎপাদনশীল কৃষি ও কৃষিবনায়নে নিলে ২০৫০ সালের বাড়তি খাদ্যচাহিদার পুরোটা মেটানো যাবে, মাটি ফিরবে, আর বছরে ০.৭২ গিগ

ডাউন টু আর্থ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬৩ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

রেকর্ড শক্তিশালী এল নিনো আসছে, তবু অস্ট্রেলিয়ায় খরা অনিবার্য নয়: আবহাওয়া ব্যুরো

মডেল বলছে চলতি এল নিনো ১৯৮২–৮৩-কে ছাড়িয়ে যেতে পারে, মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের ৩ ডিগ্রির বেশি ওপরে উঠতে পারে; কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার ব্যুরো অব মিটিওরোলজির ব্যাখ্যা, আপাতত নিরপেক্ষ ভারত মহাসাগর দ্বিমেরু, উষ্ণ সাগর ও দীর্ঘমেয়াদি উষ্ণায়নও বসন্ত-গ্রীষ্ম গড়ে দেবে; জলাধা

Beef Central২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()