মোবাইল বা ট্যাবে যুক্ত করা যায় এমন হাতে ধরা আলট্রাসাউন্ড প্রোব দিয়ে রেডিওলজিস্ট ছাড়াই স্তনে সন্দেহজনক পরিবর্তন চিহ্নিত করা সম্ভব বলে ভারতের এক গবেষণায় উঠে এসেছে। কলকাতার পিজি হাসপাতাল ও কেরালার মালাবার ক্যান্সার কেয়ার সোসাইটিতে ২০২৩ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত চলা গবেষণাটি গত সপ্তাহে প্রকাশিত হয়েছে আমেরিকান সোসাইটি অব ক্লিনিক্যাল অনকোলজির জার্নাল ‘জেসিও গ্লোবাল অনকোলজি’তে।
গবেষণায় ছিলেন ৪০ থেকে ৭৫ বছর বয়সী ৩১৯ জন নারী, যাঁদের ১৪৯ জন গ্রামীণ এলাকার প্রাথমিক স্ক্রিনিং থেকে এবং ১৭০ জন পিজি হাসপাতালের সেবার সঙ্গে যুক্ত। পরীক্ষা করেছেন প্রশিক্ষিত নন-রেডিওলজিস্ট চিকিৎসকেরা, আগে যাঁদের আলট্রাসাউন্ডের অভিজ্ঞতা ছিল না। প্রশিক্ষণ ও বিশেষজ্ঞের দূরবর্তী পরামর্শে তাঁরা দক্ষতা অর্জন করেন।
ফলাফলে যন্ত্রটির সংবেদনশীলতা (ঠিক রোগ ধরা) ৯৪ দশমিক ৪ শতাংশ এবং নির্দিষ্টতা (ভুল না করা) ৭৬ দশমিক ৭ শতাংশ। স্ক্রিনিংয়ে শনাক্ত ৩৭টি ক্যান্সারের একটিও চূড়ান্ত পরীক্ষায় বাদ পড়েনি। অপ্রয়োজনীয় রেফারেল কমেছে প্রায় ৫০ শতাংশ। ছোট, বহনযোগ্য ও তুলনায় কম খরচের যন্ত্রটি চালাতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ বা ইন্টারনেটও অপরিহার্য নয়।
গবেষণার নেতৃত্বে ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সারের (আইএআরসি) গবেষক পার্থ বসু ও পিজির তৎকালীন শিক্ষক-চিকিৎসক দীপ্তেন্দ্র সরকার। অর্থায়ন করেছে আইএআরসি। প্রেক্ষাপট হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে ২০২৫ সালে সম্ভাব্য স্তন ক্যান্সার রোগী ২ লাখ ৩৮ হাজার ৯০৮ জন বলে আইসিএমআরের পূর্বাভাস, আর গ্লোবোক্যানের হিসাবে ২০২২ সালে নতুন শনাক্ত আনুমানিক ১ লাখ ৯২ হাজার ২০০। হিসাব দুটি ভিন্ন বছর ও ভিন্ন পদ্ধতির।
বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, এই পদ্ধতি চূড়ান্ত রোগনির্ণয়ের বিকল্প নয়। সন্দেহজনক ক্ষেত্রে ম্যামোগ্রাফি, প্রচলিত আলট্রাসাউন্ড ও প্রয়োজনে বায়োপসি করতেই হবে। দীপ্তেন্দ্র সরকারের ব্যাখ্যা, কার দ্রুত সেই পরীক্ষা দরকার তা প্রাথমিক স্তরেই বেছে নেওয়া গেলে সময়, খরচ ও বিশেষজ্ঞ সেবার ওপর চাপ কমবে, বিশেষ করে যেখানে রেডিওলজিস্টের অভাব।
প্রতিবেদনটি করেছেন এই সময়ের অনির্বাণ ঘোষ।
সূত্র: এই সময়



মন্তব্য
(০)