ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৭৫টি ওয়ার্ডেই এডিস মশার ঘনত্ব স্বাভাবিক সূচকের চেয়ে বেশি পাওয়া গেছে। ডিএসসিসি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার (সিডিসি) যৌথ জরিপে ২৯টি ওয়ার্ড অতি ঝুঁকিপূর্ণ, ২৮টি মাঝারি ও ১৮টি সাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। অর্থাৎ ৭৬ শতাংশ ওয়ার্ড অধিক ও মাঝারি ঝুঁকিতে। বুধবার (৪ নভেম্বর) সংবাদ সম্মেলনে এই ফল জানানো হয়।
২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত ১২ দিনে প্রতিটি ওয়ার্ডের ৩০টি করে মোট ২ হাজার ২৫০টি বাড়ি পরিদর্শন করেন দুই সংস্থার ৩৬ জন মাঠকর্মী। তথ্য সংগ্রহ হয় ‘কবো টুলবক্স’ নামের ডিজিটাল ব্যবস্থায়। লার্ভা ও পিউপা মিলেছে প্লাস্টিকের বালতি, ড্রাম, মগ, ফুলের টব ও ভবনের বেজমেন্টে জমা পানিতে। সাধারণ বাসাবাড়ি ও বহুতল ভবনে প্রজনন বেশি, সেমিপাকা বাড়ি, খালি প্লট ও নির্মাণাধীন ভবনেও প্রজননস্থল পাওয়া গেছে।
অতি ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডগুলো হলো ১, ২, ৯, ১১ থেকে ১৬, ১৯ থেকে ২২, ২৪ থেকে ২৭, ৩১, ৫৩ থেকে ৫৬, ৫৮ থেকে ৬২, ৬৫ ও ৭১। এসব এলাকায় বিশেষ মশক নিধন অভিযান শুরু হয়েছে। প্রতি শনিবার করপোরেশনের নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির আওতায় সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আঙিনা ও শৌচাগার পরিষ্কার করা হবে।
ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, শুধু ওষুধ ছিটিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়, মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতা দরকার। করপোরেশন সপ্তাহে অন্তত এক দিন জমা পানি ফেলে দেওয়া, অপ্রয়োজনীয় পাত্র সরানো এবং দরকারি পাত্র ঢেকে রাখার আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী পাত্র সপ্তাহে একবার খালি করে ঘষে পরিষ্কার করতে হবে, কারণ এডিসের ডিম শুকনো অবস্থায়ও কয়েক মাস টিকে থাকতে পারে।
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুধবারের বুলেটিনে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ছয়জনের মৃত্যু ও ১ হাজার ৮৬৬ জন ভর্তির তথ্য দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৮৬৮ জন। চলতি বছর মোট মৃত্যু ৪৪৫, এর মধ্যে অক্টোবরেই ১৭৪ জন।
ছবি: Econt / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: প্রতিদিনের সংবাদ



মন্তব্য
(০)