খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে মুখে যত কথা, বাজেটে তার ছায়া নেই। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সরকারগুলোর উদ্দেশে এমন সমালোচনাই করেছেন আন্তর্জাতিক খাদ্যনীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইফপ্রির সাবেক মহাপরিচালক ফান শেংগেন (Fan Shenggen)। গত সপ্তাহে সিঙ্গাপুরে এশিয়া প্যাসিফিক অ্যাগ্রি ফুড সামিটে তিনি এ কথা বলেন।
ফান এখন চীনের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ার অধ্যাপক। তাঁর ভাষ্য, অনেক সরকার কৃষি, খাদ্যব্যবস্থা ও পুষ্টিতে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলে, কিন্তু দিনশেষে অর্থ দেয় না।
তাঁর হিসাবে, ভারত ও চীনের তুলনায় এই অঞ্চল খাদ্য ও কৃষিতে কম ব্যয় করে, জলজ চাষে আরও কম। চীন কৃষি জিডিপির সম্ভবত ১ শতাংশ, হয়তো প্রায় ২ শতাংশ গবেষণায় দেয়, ভারতও বাড়াচ্ছে; দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর খরচ খুবই সামান্য।
২০২৫ সালের আগস্টের একটি আইএসইএএস গবেষণাপত্রের তথ্যও একই ইঙ্গিত দেয়। থাইল্যান্ড ছাড়া আসিয়ানের সব দেশ জাতীয় বাজেটের ১০ শতাংশের কম কৃষিতে রেখেছে, সবচেয়ে বেশি কমেছে মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন ও কম্বোডিয়ায়। কৃষি ও গ্রামীণ সেবার সবচেয়ে বড় অর্থদাতা সরকারই, তাই কম সরকারি বিনিয়োগের সঙ্গে দুর্বল কৃষি প্রবৃদ্ধির যোগসূত্র টেনেছে গবেষণাপত্রটি।
বিদেশি বিনিয়োগেও পুরো সমাধান নেই। ২০২০ সালে খাদ্য, কৃষি ও বনখাত প্রায় ১০ শতাংশ প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ পেলেও তার বড় অংশ গেছে সরবরাহ শৃঙ্খলের তথ্যব্যবস্থায়।
"বাজেট দেখান," বলেন ফান। তাঁর মতে, কেবল মুখের কথায় হবে না, অর্থ লাগবে। নীতি ঠিক থাকলে বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি হয়, বিমার মতো সহায়তায় ঝুঁকি কমে, বেসরকারি খাত নিয়ম পায়।
সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে বিজ্ঞানী, অর্থনীতিবিদ ও বেসরকারি খাতকে সামাজিক মাধ্যমসহ সব পথে সরব হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
প্রতিবেদনটি লিখেছেন এজিনেভিগেটরের আমান্ডা লিম (Amanda Lim)।
ছবি: World Economic Forum from Cologny, Switzerland / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: AgNavigator





মন্তব্য
(০)