হেমন্তের ভোরে যশোরের গ্রামে খেজুরগাছ পরিষ্কার ও রস আহরণের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। কার্তিক থেকে ফাল্গুন পর্যন্ত চলবে রস সংগ্রহের মৌসুম। কৃষক, গাছি ও ব্যবসায়ীদের আশা, এবার রস ও গুড় ঘিরে প্রায় ১০০ কোটি টাকার অর্থনৈতিক কার্যক্রম হবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যে, জেলার আট উপজেলায় খেজুরগাছ প্রায় ২২ লাখ ৫৯ হাজার ৭১১টি। এর মধ্যে ৩ লাখ ২৯ হাজার ১৯৬টি গাছ থেকে রস নেওয়া হচ্ছে, এ কাজে যুক্ত ৬ হাজার ২৫০ জন গাছি ও ১৫ হাজার ১৪৪ জন কৃষক। রসের পরিমাণ ৫ কোটি ২৮ লাখ ৮৮ হাজার ৬৯৫ লিটার, গুড় ৭ হাজার ৯০ মেট্রিক টন, যার মূল্য প্রায় ১১১ কোটি ১৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা।
গত মৌসুমের হিসাবে সবচেয়ে বেশি গুড় হয়েছে বাঘারপাড়ায় (৬১১ টন), এরপর মণিরামপুর (৫৮২ টন) ও যশোর সদরে (৫২১ টন)। ২০২৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি যশোরের খেজুরের গুড় ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের স্বীকৃতি পায়।
তবে সম্ভাবনার আড়ালে সংকটও আছে। মণিরামপুরের মাসনা খানপুরের গাছি আলী রেজা জানান, নতুন প্রজন্ম এ পেশায় আসতে চায় না, আর অবৈধ ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে খেজুরগাছ পোড়ানোয় গাছ কমছে। মৌসুমের আগে সরঞ্জামে একজন গাছির ২ থেকে ৩ হাজার টাকা লাগে, অথচ দৈনিক মজুরি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা।
আরবপুরের গাছমালিক আতিয়ার রহমান প্রতি বছর প্রায় ৬০০টি গাছ লিজ নেন। তিনি বলেন, খরচ বেড়েছে, গাছি মিলছে না, গুড়ের দামও কম। গাছি না থাকলে ভবিষ্যতে রস সংগ্রহই বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে তাঁর আশঙ্কা।
অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) সুলতানা আফরোজ জানান, কৃষকদের বসতবাড়ি, পতিত জমি ও রাস্তার পাশে খেজুরগাছ লাগানোর পরামর্শ ও রস সংগ্রহের উন্নত পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে গাছি সমাবেশের পরিকল্পনা আছে। চৌগাছায় এক হাজারের বেশি গাছির ডাটাবেজ হয়েছে, প্রয়োজন অনুযায়ী প্রণোদনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। কয়েকজন উদ্যোক্তা কানাডা থেকে ম্যাপল সিরাপ তৈরির পদ্ধতি শিখে এসেছেন। খেজুরের রস থেকে সিরাপ তৈরির পরিকল্পনা চলছে, যা বিএসটিআইয়ে পরীক্ষা করা হবে। প্রতিবেদনটি করেছেন ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট সরোয়ার হোসেন।
ছবি: NIslamPhoto / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: বাংলা নিউজ ২৪




মন্তব্য
(০)