দেশে মাছের উৎপাদন রেকর্ড ছুঁলেও যে শ্রমিকেরা নদী ও সাগরে মাছ ধরেন, তাঁদের বেশির ভাগ লিখিত চুক্তি, নির্ধারিত মজুরি ও সামাজিক সুরক্ষা ছাড়াই কাজ করছেন। সোমবার (২৬ অক্টোবর) ঢাকার একটি হোটেলে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস) ও ফ্রেডরিখ-এবার্ট-স্টিফটুং (এফইএস) বাংলাদেশের জাতীয় সংলাপে বক্তারা এ কথা বলেন।
‘বাংলাদেশের মৎস্য খাতে শোভন কর্মপরিবেশ: নীতি সুপারিশ ও করণীয়’ শীর্ষক সংলাপের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিলসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রেজওয়ানুল হক আজম। প্রবন্ধে ছয়টি অগ্রাধিকার চিহ্নিত করা হয়: আইনি স্বীকৃতি, শ্রমিক নিবন্ধন, কর্মপরিবেশের উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা, প্রতিনিধিত্ব এবং জীবিকা ও পরিবেশের সুরক্ষা।
বক্তারা জানান, মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময় আয় বন্ধ থাকায় শ্রমিকদের দাদন ও ঋণের ওপর নির্ভর করতে হয়। সংলাপের সভাপতি, ন্যাশনাল ফিশিং ওয়ার্কার্স ট্রেড ইউনিয়ন ফোরামের আহ্বায়ক নাইমুল আহসান জুয়েল বলেন, শ্রমিকেরা মাছ ধরে আনলেও আয়ের বড় অংশ চলে যায় দাদন ব্যবসায়ীদের হাতে, আর শ্রমিকেরা আটকে পড়েন ঋণের জালে।
বিলসের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ শ্রমিকদের পরিচয়পত্রের আওতায় এনে সামাজিক সুরক্ষা দেওয়ার কথা বলেন। বাংলাদেশ মুক্ত শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল্লাহ বাদল আগে শ্রমিকদের সংগঠিত করে একটি তথ্যভান্ডার গড়ার এবং দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের শ্রমিক কল্যাণ তহবিল থেকে সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব দেন।
ন্যাশনাল ফিশিং ওয়ার্কার্স রাইট ফোরামের যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম জাকির হোসেন বলেন, এ খাতের নারী শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন সুবিধা নেই, অনেকে চর্মরোগে ভুগলেও স্বাস্থ্য সুরক্ষা নেই, আর সাগরে যাওয়া ট্রলারে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থাও থাকে না। উপকূলের গবেষক শফিকুল ইসলাম খোকন ও কক্সবাজার জেলা ফিশিং বোট শ্রমিক ইউনিয়নের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান বাহাদুর জানান, নিখোঁজ শ্রমিকদের কোনো সরকারি তালিকা নেই এবং মজুরি এখনো মৌখিক চুক্তিতে চলে।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) জ্যেষ্ঠ কর্মসূচি কর্মকর্তা মাহমুদুল ইসলাম খান আইন ও নীতির বিষয়গুলো শ্রমিকদের কাছে সহজ করে পৌঁছানো এবং সব অংশীজনকে নিয়ে নীতি তৈরির ওপর জোর দেন। বিলসের নির্বাহী পরিষদের সদস্য পুলক রঞ্জন ধর জলদস্যুদের হাতে শ্রমিক অপহরণের সমস্যার কথাও তোলেন।
আয়োজকেরা বলেন, অর্থনীতি, খাদ্যনিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানে মৎস্য খাতের বড় অবদান থাকলেও এর শ্রমিকেরা অনানুষ্ঠানিক নিয়োগ ও পেশাগত ঝুঁকির মধ্যে আছেন; সেই ফাঁক পূরণে নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ চিহ্নিত করাই ছিল সংলাপের লক্ষ্য।
প্রতিবেদন: বাংলা নিউজ ২৪-এর সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট।
ছবি: কক্সবাজারের ইনানী সৈকতের কাছে ছোট নৌকায় মাছ ধরছেন জেলেরা, Muhammad Amdad Hossain / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: বাংলা নিউজ ২৪





মন্তব্য
(০)