২০২২ সালের শুরুতে জিম্বাবুয়ের মাতাবেলেল্যান্ড সাউথের ফিলাবুসিতে ফ্রেশমার্ক ফার্মিং এন্টারপ্রাইজেস (Freshmark Farming Enterprises) চালু করেন ভেকুমুজি দুবে (Bhekumuzi Dube)। শুরুতে তিনি মাংসের জন্য ব্রয়লার পালতেন, প্রতি চক্রে প্রায় ৫০০টি, ব্যবসা বাড়লে প্রতি দুই সপ্তাহে আরও ৫০০টি যোগ করতেন। ফার্মার্স উইকলি জানায়, প্রথমে স্থানীয়দের কাছে জীবন্ত মুরগি বিক্রি করতেন, পরে দূরের কসাইখানায়ও সরবরাহ শুরু করেন।
উৎপাদন বাড়তেই সমস্যা বাড়ে। দুবে বলেন, ক্রেতারা নিজেরাই দাম ঠিক করে দিতে শুরু করেন, অথচ উৎপাদন খরচ বাড়ছিল। খাদ্য, জ্বালানি আর ওষুধই ছিল মূল খরচ। দুর্গম খামারটি মূলত সৌরবিদ্যুতে চলে, এক সময় পর্যাপ্ত হিমায়নের ব্যবস্থাও ছিল না। তিনি বুঝলেন, শুধু ব্রয়লারের সংখ্যা বাড়িয়ে ব্যবসা বড় করা ঠিক পথ নয়।
ফ্রেশমার্ক তখন প্রজনন ও বাচ্চা উৎপাদনে চলে যায়। এখন খামারে প্রায় ৩৫০টি মুরগি, যার প্রায় ১৫০টি প্রজননের জন্য। দুবের আগ্রহের শুরু একটি পরীক্ষা থেকে: একটি ব্রাহমা মোরগ কিনে তিনি স্থানীয় দেশি মুরগির সঙ্গে সংকর করেন। তাঁর ভাষায়, বাচ্চাগুলো ছিল শক্ত, সহনশীল আর দ্রুত বাড়ন্ত। এর আগে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকায় পরিবহন খাতে কাজ করতেন, সেখানে পরিচিত খামারিদের জ্ঞান আর নিষ্ঠা দেখে দেশে ফিরে খামার করার কথা ভাবেন।
প্রজনন তাঁর খামারের ধরন বদলে দিয়েছে। বাজারের জন্য পালনের বদলে তিনি বাড়, দেহের গঠন, উর্বরতা, ডিম উৎপাদন, ডিম ফোটার হার, মেজাজ আর সহনশীলতা দেখে মা-বাবা মুরগি বাছাই করেন। কোন মুরগি প্রজননে থাকবে, তা ঠিক করার আগে আলাদা আলাদা পাখি সময় নিয়ে পর্যবেক্ষণ করেন এবং হিসাব রাখেন, কারণ প্রতিটি সিদ্ধান্তের ফল বোঝা যায় কয়েক প্রজন্ম পরে। শান্ত স্বভাব আর সহজে সামলানো যায় বলে তিনি বাফ অরপিংটন জাতের মুরগি বেছে নিয়েছেন।
বাচ্চা উৎপাদনের জন্য খামারে ইনকিউবেটরে বিনিয়োগ করা হয়েছে, এর মধ্যে আছে প্রায় ৬৮০টি ডিম ধরে এমন একটি সেটার, যা এখন ব্যবসার কেন্দ্রে।
খাদ্যের খরচ আর ক্রেতার দামের চাপে থাকা ছোট পোলট্রি খামারিদের জন্য দুবের পথ একটি বিকল্প: মাংসের মুরগির দামে প্রতিযোগিতা না করে অন্য খামারিদের কাছে বাচ্চা সরবরাহ।
প্রতিবেদনটি ফার্মার্স উইকলির নিজস্ব প্রতিবেদকের।
ছবি: Rex / উইকিমিডিয়া কমন্স (Public domain)
সূত্র: ফার্মার্স উইকলি সাউথ আফ্রিকা





মন্তব্য
(০)