মেক্সিকো থেকে মোটাতাজাকরণের বাছুর বা ফিডার ক্যাটল আমদানি দীর্ঘদিন স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম থাকলে যুক্তরাষ্ট্রে গবাদিপশুর জোগান কমবে, গরুর মাংসের দাম বাড়বে, মেক্সিকোর মাংস উৎপাদন বাড়বে এবং উত্তর আমেরিকার মাংস বাণিজ্যের ধরন বদলাবে। মিসৌরি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচারাল পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট ফাপ্রি-এমইউর (FAPRI-MU) গবেষণা ও বাজার পূর্বাভাসের বরাতে এ খবর দিয়েছে ফার্মস ডটকম।
জীবন্ত পশুর বাণিজ্যে দুই দেশের গবাদিপশু শিল্প ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। কিন্তু নিউ ওয়ার্ল্ড স্ক্রুওয়ার্ম নামের মাছির শূককীট নিয়ে উদ্বেগে মেক্সিকোর গবাদিপশু আমদানিতে বিধিনিষেধ দেওয়ার পর থেকে, কিছু বাণিজ্য আবার শুরু হলেও, সামনের বছরগুলোতে সীমান্ত পেরিয়ে কত পশু আসবে তা অনিশ্চিত। বিশ্লেষণে দুটি অবস্থা তুলনা করা হয়েছে: আমদানি স্বাভাবিক পর্যায়ে ফেরা, আর ঐতিহাসিক গড়ের চেয়ে অনেক কম থাকা।
কম আমদানির ক্ষেত্রে ২০২৭ থেকে ২০৩১ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র মেক্সিকো থেকে অনেক কম বাছুর পাবে, ফলে মোটাতাজাকরণ ও জবাইয়ের পশু কমবে। ফিডার ক্যাটল, মোটাতাজা গরু ও গরুর মাংস সবকিছুর দাম বাড়বে, ফিডলট ও প্রক্রিয়াকারীদের খরচ বাড়বে, ক্রেতাকেও বেশি দাম দিতে হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের মোট মাংস উৎপাদন কমবে, দেশের বাজার ও রপ্তানির জন্য কম মাংস থাকবে।
দাম বাড়লে মার্কিন খামারিরা বেশি বকনা রেখে দিয়ে পাল বড় করতে উৎসাহিত হবেন, এতে ঘাটতির একাংশ পূরণ হবে। তবে পাল নতুন করে গড়তে সময় লাগে, তাই দামের চাপ কয়েক বছর থাকতে পারে বলে বিশ্লেষণে বলা হয়েছে।
মেক্সিকোতে ঘটবে উল্টোটা। রপ্তানি না হওয়া পশু দেশেই মোটাতাজা ও প্রক্রিয়াজাত হবে, ফলে মেক্সিকোর মাংস উৎপাদন বাড়বে, যদিও বাড়তি পশু সামলাতে ফিডলট ও কারখানার সময় ও বাড়তি খরচ লাগবে। মেক্সিকোর মাংস রপ্তানি বাড়তে পারে, যুক্তরাষ্ট্রেও, আর উৎপাদনের ঘাটতি মেটাতে যুক্তরাষ্ট্র বেশি মাংস আমদানি করতে পারে। ফলে সীমান্ত পেরোবে কম জীবন্ত পশু, কিন্তু বেশি মাংস; দুই দেশেরই ভোক্তা বেশি দাম দেখতে পারেন।
গবেষণাটি শেষে বলছে, দুই দেশের শিল্পই শেষ পর্যন্ত মানিয়ে নেবে, তবে জীবন্ত পশুর বাণিজ্য পুরোপুরি ফিরলে যতটা হতো, দুই দেশ মিলিয়ে মোট মাংস উৎপাদন তার চেয়ে সামান্য কম হবে। সীমান্তের এই বাণিজ্য উত্তর আমেরিকার মাংস উৎপাদনকে কতটা দক্ষ রাখে, এটি তারই মাপ।
ছবি: Preston Keres, USDA / উইকিমিডিয়া কমন্স (Public domain)
সূত্র: Farms.com





মন্তব্য
(০)