অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়া ১,২৮,৮৩৬ টন গরুর মাংস রপ্তানি করেছে, যা সেপ্টেম্বরের চেয়ে ৩ শতাংশ এবং গত বছরের অক্টোবরের চেয়ে ৮ শতাংশ কম। বৃষ্টিতে জবাই ব্যাহত হওয়া এবং খামারিরা গরু আগামী বছর পর্যন্ত রেখে দেওয়ায় এমন হয়েছে বলে কৃষি, মৎস্য ও বন বিভাগের মাসিক বাণিজ্য তথ্য উদ্ধৃত করে জানিয়েছে বিফ সেন্ট্রাল।
দেশের বড় অংশ শুকিয়ে আসায় শেষ প্রান্তিকে উৎপাদন বাড়বে বলে ধারণা ছিল, কিন্তু তা হয়নি। আগের সপ্তাহের আগের সপ্তাহটি ছিল জানুয়ারিতে মৌসুম শুরুর পর ছুটি ছাড়া সবচেয়ে ছোট জাতীয় প্রক্রিয়াজাতকরণ সপ্তাহ, ১ লাখ ৪০ হাজারের সামান্য বেশি পশু। তবে কুইন্সল্যান্ডের প্রক্রিয়াকারী স্ট্যানব্রোক এখন সাপ্তাহিক প্রায় ৬,০০০ পশু জবাইয়ের হিসাব দেয় না বলে সংখ্যাটি কিছুটা কম দেখায়।
অক্টোবর পর্যন্ত বছরে অস্ট্রেলিয়া ১৩ লাখ ৩৮ হাজার টন হিমায়িত ও শীতল গরুর মাংস রপ্তানি করেছে, ভালো শুরুর কারণে যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে এখনো ৭১ হাজার টন বেশি। মিট অ্যান্ড লাইভস্টক অস্ট্রেলিয়ার সেপ্টেম্বরের পূর্বাভাস ছিল বছরে রেকর্ড ১৬ লাখ ৪৬ হাজার টন, যা গত বছরের রেকর্ড ১৫ লাখ ৪৬ হাজার টনের চেয়ে ১৫ শতাংশ বেশি। কিন্তু বেশির ভাগ রপ্তানি কারখানা ১৭-১৮ ডিসেম্বর বন্ধ হবে, তাই বছরের মোট রপ্তানি এখন ১৫ লাখ টনের কিছু বেশি হওয়াই বেশি বাস্তবসম্মত বলে মনে করছে বিফ সেন্ট্রাল। শক্তিশালী এল নিনোর আশঙ্কায় আবহাওয়া ব্যুরোর হতাশাজনক বসন্ত-গ্রীষ্মের পূর্বাভাসও হিসাব বদলেছে।
সবচেয়ে বেশি ধাক্কা চীনের বাজারে। জুনের মাঝামাঝি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫৫ শতাংশ শুল্কের কারণে চীন আগের পরিমাণের মাত্র ২০ থেকে ৪০ শতাংশ নিচ্ছে। অক্টোবরে সেখানে গেছে ১০,৮৫২ টন, সেপ্টেম্বরের চেয়ে প্রায় ৪,০০০ টন বেশি হলেও গত বছরের অক্টোবরের ২০,২০০ টনের চেয়ে অনেক কম। দশ মাসে চীন নিয়েছে ১,৭৩,৮০০ টন, যার ৮২ শতাংশ হিমায়িত; গত বছর একই সময়ে নিয়েছিল ২,২৩,০০০ টন।
ব্যবসায়ীদের ধারণা, জানুয়ারিতে নতুন কোটা বছর শুরু হলে রেকর্ড রপ্তানি হবে, কারণ রপ্তানিকারকেরা ২০২৭ সালের জন্য অস্ট্রেলিয়ার ২,০৬,০০০ টনের শুল্কমুক্ত কোটা পূরণে প্রতিযোগিতায় নামবেন। চীনের গুদাম ভরতে প্রথম দুই সপ্তাহে বিমানে অস্বাভাবিক বেশি শীতল মাংস যেতে পারে।
প্রতিবেদনটি লিখেছেন বিফ সেন্ট্রালের জন কনডন।
ছবি: John Robert McPherson / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: Beef Central





মন্তব্য
(০)