একসময় ধনীদের রুপার প্লেটের খাবার ক্যাভিয়ার বা স্টার্জন মাছের ডিম এখন পৌঁছে যাচ্ছে আলুর চিপস আর সামাজিক মাধ্যমের ভিডিওতে। আজকের পত্রিকার ফিচার ডেস্ক ফোর্বস, দ্য কনভারসেশন ও মর্নিং ব্রিউর তথ্য ধরে লিখেছে, এই বদলের পেছনে বড় ভূমিকা মাছ চাষের।
উনিশ শতকে যুক্তরাষ্ট্রে ক্যাভিয়ার এতটাই সাধারণ ছিল যে বারে বাদাম বা পপকর্নের মতো বিনা পয়সায় দেওয়া হতো। পরে কাস্পিয়ান সাগরে অতিরিক্ত শিকারে বিলুপ্তির আশঙ্কা দেখা দিলে ২০০৬ সালে বন্য স্টার্জন ধরা নিষিদ্ধ হয়, আর ক্যাভিয়ার রাতারাতি দুর্লভ ও দামি হয়ে ওঠে।
পরিস্থিতি ঘুরিয়ে দেয় অ্যাকুয়াকালচার বা খামারে স্টার্জন চাষ, যেখানে চীন বড় ভূমিকা রাখছে। বিশ্বজুড়ে মোট ক্যাভিয়ার রপ্তানির প্রায় ৪৪ শতাংশ এখন চীনের। জোগান বাড়ায় পাইকারি বাজারে যে টিন আগে ৫০০ ডলার বা তার বেশি দামে কিনতে হতো, তা এখন ২০০ ডলারের নিচে মিলছে।
সামাজিক মাধ্যমে হাতের পিঠে রেখে ক্যাভিয়ার খাওয়ার 'ক্যাভিয়ার বাম্প' প্রবণতায় তরুণদের কাছেও এটি জনপ্রিয় হয়েছে; চিপস, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই বা পিৎজার সঙ্গেও খাওয়া হচ্ছে। দ্য মার্কের 'ক্যাভিয়ার কাস্পিয়া'র পরিচালক ক্রিশ্চিয়ান স্যাভাগ্লিয়ার মতে, সাধারণ খাবারের সঙ্গে এই মেলবন্ধন ক্যাভিয়ারকে সহজলভ্য করেছে।
ক্যাভিয়ারে প্রোটিন, চর্বি ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে। তবে বিলাসিতার মাপকাঠি এখন বিরলতা: সাধারণ বেয়ারি ক্যাভিয়ারের দাম কেজিপ্রতি প্রায় ১,৬০০ ইউরো হলেও বিরল আলবিনো বেলুগা স্টার্জনের আলমাস ক্যাভিয়ার কেজিপ্রতি ৩০,০০০ ইউরো ছাড়িয়ে যায়।
প্রতিবেদন: ফিচার ডেস্ক, আজকের পত্রিকা (তথ্যসূত্র: ফোর্বস, দ্য কনভারসেশন, মর্নিং ব্রিউ)
ছবি: The Ogre / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: আজকের পত্রিকা





মন্তব্য
(০)