কম শুল্কে বাড়তি ৩ লাখ টন গরুর মাংসের ছাঁট যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে দেওয়ার পরও দোকানে গরুর মাংসের কিমার দাম প্রায় কমেনি, বরং খামারিদের গরুর দাম পড়ে গেছে—২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত আমেরিকান ফার্ম ব্যুরো ফেডারেশনের (এএফবিএফ) এক বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে।
আগস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এক ঘোষণায় ১ সেপ্টেম্বর থেকে চর্বিহীন গরুর মাংসের ছাঁটের শুল্ক কোটা সাময়িকভাবে ৩ লাখ মেট্রিক টন বা প্রায় ৬৬ কোটি ১০ লাখ পাউন্ড বাড়ানো হয়। খুচরা বিক্রেতাদের ২৫ শতাংশ ছাড় দিতে 'উৎসাহিত' করা হলেও কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না। এএফবিএফের অর্থনীতিবিদ বার্ন্ট নেলসন ও ফেইথ পারুম ২ সেপ্টেম্বর থেকে ২২টি অঙ্গরাজ্যের ৪১টি দোকানে ৮০ শতাংশ চর্বিহীন কিমার দৈনিক দাম পর্যবেক্ষণ করেন।
গড় দাম ২ সেপ্টেম্বরের পাউন্ডপ্রতি ৭.২৯ ডলার থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর ৭.১৩ ডলারে নেমেছে—মাত্র ১৬ সেন্ট বা প্রায় ২ শতাংশ। ৪১টির মধ্যে ৩০টি দোকানে দাম হুবহু আগের মতো; সাতটিতে কমেছে, আর ২৫ শতাংশ ছাড়ে পৌঁছেছে মাত্র তিনটি। আইওয়ার ডে মইন ও ডেভেনপোর্টে দাম বেড়েছে যথাক্রমে ৩৯ ও ৩৮ শতাংশ, মিশিগানের ইস্ট ল্যান্সিংয়ে ২৫ শতাংশ এবং ডেনভারে ১১ শতাংশ।
অর্থনীতিবিদদের মতে, খুচরা দাম নির্ভর করে প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরিবহন, শ্রম ও মুনাফাসহ পুরো সরবরাহ শৃঙ্খলের খরচের ওপর; ইউএসডিএর অর্থনৈতিক গবেষণা সেবার হিসাবে দোকানে খাবারে খরচ হওয়া প্রতি ডলারের মাত্র ৩.৩ সেন্ট খরচ বাদে খামারির হাতে যায়। আসল সমস্যা গরুর পাল ছোট হয়ে আসা: এ বছর বাছুরের সংখ্যা রেকর্ড কম, ৩ কোটি ২৫ লাখ, যা ২০১৮ সালের শীর্ষ অবস্থানের চেয়ে ৩৮ লাখ কম।
এদিকে ঘোষণার পর থেকে গরু ও ফিডার গরুর ফিউচার্স দাম তীব্রভাবে পড়েছে; কিছু খামারি জানাচ্ছেন, দুই মাস আগের চেয়ে প্রতি গরুতে ৩০০ থেকে ৪০০ ডলার কম পাচ্ছেন। এএফবিএফ সভাপতি জিপি ডুভাল প্রেসিডেন্টকে পরিকল্পনাটি প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটি গবাদিপশু খাতের নাজুক পুনরুদ্ধারকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, অথচ ভোক্তার কোনো লাভ হয়নি; দেশের গরুর পাল পুনর্গঠনে দীর্ঘমেয়াদি নীতির দিকে মনোযোগ দিতে বলেন তিনি।
ছবি: Rainer Zenz / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: American Farm Bureau Federation





মন্তব্য
(০)