জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) কৃষি-খাদ্যব্যবস্থা ও গ্রামীণ উন্নয়নে অবদানের জন্য বিশ্বের ১০০ জন নারীকে ‘উইমেন হিরোজ’ হিসেবে সম্মাননা দিয়েছে। কৃষি, খাদ্য ও গ্রামীণ জনপদে তাঁদের কাজ বদল আনছে।
উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে আন্তর্জাতিক নারী কৃষক বর্ষ ২০২৬ উপলক্ষে। রোমে এফএওর সদর দপ্তরে ওয়ার্ল্ড ফুড ফোরামের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠানটি হয় ১৫ অক্টোবর, আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবসে। দিবসটি কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা ও গ্রামীণ দারিদ্র্য দূরীকরণে গ্রামীণ নারীর ভূমিকাকে স্বীকৃতি দেয়।
অনুষ্ঠানের আগের কয়েক দিনে ৯৯ জনের নাম ঘোষণা করেছিল এফএও। অনুষ্ঠানে জানানো হয় শততম নাম: চীনের ইন ইয়ুচেন (Yin Yuzhen)। মু উস বালুকাময় অঞ্চলে ক্ষয়ে যাওয়া জমি পুনরুদ্ধারে কয়েক দশকের কাজের জন্য তাঁকে বেছে নেওয়া হয়েছে। মরুকরণের হুমকিতে থাকা এলাকায় গাছ লাগানো দিয়ে যে কাজ শুরু, তা তাঁর বাড়ির চারপাশের প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমি পুনরুদ্ধারে সাহায্য করেছে; গোটা এলাকায় লাগানো হয়েছে ৮০ লাখের বেশি গাছ, যা কৃষি ও স্থানীয় জীবিকাকে সহায়তা করছে।
এফএও ১৩১টি সদস্যদেশ থেকে ৬০৯টি মনোনয়ন পায়। প্রতিটি দেশ কতজনকে মনোনয়ন দিতে পারবে, তা ঠিক হয় জনসংখ্যা অনুযায়ী। নিয়ম ও কোটার সঙ্গে মিলিয়ে বাছাইয়ের পর ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপনা প্রার্থীদের ক্রম ঠিক করে; মান, ভারসাম্য ও প্রতিনিধিত্ব যাচাইয়ে আরও দুই দফা পর্যালোচনার পর চূড়ান্ত তালিকা অনুমোদন করে এফএওর সিনিয়র লিডারশিপ কমিটি।
সম্মাননাপ্রাপ্ত নারীরা বিভিন্ন অঞ্চল ও পেশার: কৃষক, উদ্যোক্তা, গবেষক, শিক্ষক ও সমাজনেতা, যাঁরা খাদ্য উৎপাদন, প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা, বিজ্ঞানচর্চা, ব্যবসা ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সহায়তায় কাজ করছেন। অনুষ্ঠান উদ্বোধন করে মহাপরিচালক চু দোংইউ তাঁর দাদির কথা স্মরণ করেন, যিনি চীনের এক ছোট গ্রামে তাঁকে বড় করেছেন এবং চাষাবাদ ও রান্না শিখিয়েছেন। তিনি বলেন, দাদির কাছে যা শিখেছেন, দাদি তা শিখেছিলেন আগের প্রজন্মের নারীদের কাছ থেকে।
সূত্র: এফএও নিউজরুম




মন্তব্য
(০)