পশুখাদ্যের জন্য আমদানি করা প্রোটিনের ওপর ইউরোপের নির্ভরতা কমাতে প্রোফিড (PROFEED) নামে নতুন একটি প্রকল্প শুরু হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের হরাইজন ইউরোপ কর্মসূচি থেকে প্রায় ৫৫ লাখ ইউরো পাওয়া প্রকল্পটি স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, আঞ্চলিক পরিকল্পনা ও নীতি সুপারিশ তৈরি করবে বলে জানিয়েছে ইউরোপীয় কমিশন। খবরটি দিয়েছে অ্যাগ্রিল্যান্ড।
কমিশনের হিসাবে ইউরোপে ব্যবহৃত উচ্চ প্রোটিনের পশুখাদ্যের প্রায় ৯৬ শতাংশ আমদানি করা। এতে সরবরাহ বিঘ্ন, দামের ওঠানামা আর পরিবেশগত চাপে খামারিরা ঝুঁকিতে থাকেন। ইউনিভার্সিটি অব লিডসের নেতৃত্বে আটটি দেশের ১৫টি প্রতিষ্ঠান এতে যুক্ত, যারা ফসল বিজ্ঞান, খামার, খাদ্য প্রযুক্তি, পশুপুষ্টি ও নীতিকে এক সুতোয় বাঁধবে। সমন্বয়ক ক্রিস্টিন বশ বলেন, প্রোটিনের উৎস বৈচিত্র্যকে তাঁরা ইউরোপের পশুখাদ্যব্যবস্থাকে টেকসই ও প্রতিযোগিতামূলক করার সুযোগে পরিণত করতে চান।
প্রথমে জিনব্যাংকে সংরক্ষিত ১৩০টির বেশি সয়াবিন, লুপিন ও আলফালফার নমুনা নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে, ভবিষ্যতের জলবায়ু ধরে নিয়ে, যাচাই করা হবে। সবচেয়ে সম্ভাবনাময় ও সহনশীল জাতগুলো এরপর ইউরোপের বিভিন্ন জলবায়ুর খামারে চাষ হবে, আর পশু পরীক্ষায় দেখা হবে শূকর, মুরগি ও চাষের মাছের খাদ্যে সেগুলো কতটা কাজে আসে। পরিবেশ ও অর্থনৈতিক প্রভাবও মাপা হবে।
প্রকল্পে থাকবেন ৪০ জন কৃষক, নতুন সমাধান তৈরি ও দেখানোর ১০টি 'লাইটহাউস' কেন্দ্র এবং চারটি অনুশীলনকারী গোষ্ঠী। একটি উন্মুক্ত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে থাকবে প্রোটিন ফসল চাষ ও ব্যবহারের তথ্য, সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণ। তৈরি হবে অভিন্ন ইউরোপীয় তথ্যভান্ডার, নীতি সুপারিশ আর কৃষক, পরামর্শক ও নীতিনির্ধারকদের জন্য বহু ভাষার অনলাইন কোর্স।
আয়ারল্যান্ডের কৃষিমন্ত্রী মার্টিন হেইডন আগে জানিয়েছিলেন, দেশটির পশুখাদ্যের ৮০ শতাংশ আসে চারণভূমির ঘাস ও সংরক্ষিত ঘাস থেকে। তবে ২০২৫ সালে প্রায় ৬৫ লাখ টন মিশ্র পশুখাদ্য তৈরি হয়েছে, আর আমদানি হয়েছে প্রায় ৫১ লাখ টন, মূলত ভুট্টা ও এর উপজাত, সয়াবিন খৈল ও খোসা এবং সরিষা খৈল। এর বেশির ভাগ আসে আর্জেন্টিনা, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ব্রাজিল থেকে।
ছবি: Michael Button / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: Agriland





মন্তব্য
(০)