খরার মুখেও নষ্ট হয় না, অথচ কয়েক মিলিয়ন মানুষের পেট ভরাতে পারে এমন এক গাছের নাম ‘এনসেট’, যা ‘ফলস ব্যানানা’ নামেও পরিচিত। আফ্রিকায় একে বলা হয় ‘দ্য ট্রি এগেইনস্ট হাঙ্গার’। ইথিওপিয়ার কাফা অঞ্চলসহ কয়েকটি এলাকায় প্রায় প্রতিটি কৃষক এটি চাষ করেন, কিন্তু পাশের কেনিয়া, তানজানিয়া বা উগান্ডায় এর নামও প্রায় কেউ শোনেনি, জানিয়েছে কলকাতার এই সময়।
লন্ডনের রয়্যাল বোটানিক গার্ডেনসের গবেষক পল বোরেলের মতে, গাছটি ছড়ানোর সবচেয়ে বড় বাধা ইথিওপিয়ার কড়া আইন। জাতীয় শস্য তেফ নিয়ে অতীতে একটি ডাচ সংস্থার সঙ্গে আইনি লড়াইয়ের পর ইথিওপিয়া নিজেদের ঐতিহ্যবাহী উদ্ভিদের বীজ বা উপাদান বাইরে যাওয়া নিয়ে কঠোর। সিএনএনের প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে লেখা হয়েছে, আফ্রিকার অন্য জঙ্গল থেকে বুনো এনসেট সংগ্রহ করা গেলেও তা থেকে খাবারের উপযোগী অংশ বা পুষ্টি প্রায় পাওয়া যায় না।
দ্বিতীয় বাধা প্রক্রিয়াজাতকরণ। গাছ কেটে খাবার বের করা অত্যন্ত পরিশ্রমের কাজ, যা শতাব্দী ধরে ইথিওপিয়ার নারী কৃষকেরা করে আসছেন; যন্ত্রে কাজটি সহজ করার চেষ্টা চললেও প্রযুক্তি এখনো ব্যাপকভাবে ছড়ায়নি। কেটে, পচিয়ে প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি হয় ‘কোচো’, যা রুটির মতো খাওয়া হয়; এর অচেনা স্বাদও বাইরের দুনিয়ায় গ্রহণযোগ্যতা কমিয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনে বিশ্ব যখন খরা আর উত্তাপে ভুগছে, তখন এনসেটের মতো খরাসহিষ্ণু শস্য খুব দরকারি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তবে ইথিওপিয়ার কিছু তরুণ কৃষক গম বা ভুট্টার দিকে ঝোঁকায় এনসেটের চাষ কিছুটা কমছে। তাই লন্ডনের রয়্যাল বোটানিক গার্ডেনসের গবেষকেরা ইথিওপিয়ার গবেষকদের সঙ্গে মিলে স্থানীয় চাষিদের উৎসাহ দিচ্ছেন।
ছবি: H. Zell / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: এই সময়



মন্তব্য
(০)