ড্রোন দিয়ে ছত্রাকনাশক ছিটানো জমির চেয়ে উঁচু চাকার (হাই-ক্লিয়ারেন্স) স্প্রেয়ারে ছিটানো জমিতে ভুট্টার টার স্পট রোগ ধারাবাহিকভাবে কম দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের কৃষক ক্রিস উইভার (Chris Weaver) ভুট্টা কাটা শুরু করে এই পার্থক্য দেখেছেন। মার্কিন কৃষি সংবাদমাধ্যম ডিটিএনের ‘ভিউ ফ্রম দ্য ক্যাব’ ধারাবাহিকে দুজন কৃষক পুরো মৌসুমের ফসলের অবস্থা দিনলিপির মতো লিখে জানান; উইভার তাঁদের একজন।
ফিন্সবার্গের কাছে উইভারের খামারে টার স্পট এসেছে মৌসুমের শেষ দিকে। তিনি বলেন, ফসল সার্বিকভাবে সুস্থ থাকায় ক্ষতি কম হয়েছে, তবে যেসব জমিতে ড্রোনে ছত্রাকনাশক দেওয়া হয়েছিল সেখানে রোগ ঠেকানোর কার্যকারিতায় স্পষ্ট পার্থক্য চোখে পড়েছে। দাঁড়ানো ফসলের ওপর ড্রোনে আচ্ছাদন ফসলের (কভার ক্রপ) বীজ ছিটানোও এ বছর ভালো ফল দেয়নি; অথচ যব কাটার পর সরাসরি বীজ বোনা জমিতে চারা ভালো গজিয়েছে। পাতলা চারার জমিগুলোতে এখন ট্রিটিকেল, রাই, ক্রিমসন ক্লোভার ও বাকহুইটের মিশ্র বীজ বোনা হচ্ছে, ১৫ নভেম্বরের কাছাকাছি বোনা বন্ধ হবে। উইভারের কথায়, ড্রোনে বীজ মাটির সংস্পর্শ পাচ্ছে না।
উইভারের ভুট্টার ফলন এখন পর্যন্ত একরপ্রতি ২২০ থেকে ২৬০ বুশেল, এ সপ্তাহে দানার আর্দ্রতা ২০ থেকে ২৪ শতাংশ। জোরালো বাতাসেও গাছ হেলে পড়েনি। তবে যেসব জমিতে হরিণ খেয়েছে সেখানে ফলন কম; জমির চারপাশে তিনি উদ্ভিদভিত্তিক একটি হরিণ-তাড়ানো স্প্রে দিয়েছিলেন, আর যে জমিতে তা একেবারেই দেননি সেখানে ফলন নেমেছে একরপ্রতি ১৪৫ বুশেলে। এরপর চুন ছিটানো ও মাটির জীবাণু কার্যক্রম বাড়ানোর জৈব উপকরণ দেওয়ার কাজ, আর এ সপ্তাহে সয়াবিন কাটা শুরুর আশা করছেন তিনি।
মিনেসোটার বেলগ্রেডের কাছের কৃষক টাইলার রাথ (Tyler Rath)-এর মৌসুম কেটেছে বেশি কষ্টে। ২ অক্টোবর প্রথম তুষারপাতে দ্বিতীয় দফার কিছু সয়াবিনের ডগা পুড়ে গেছে, বৃষ্টিতে ভুট্টা ও খাওয়ার শিম কাটা পিছিয়েছে। ভেজা মাটির কারণে কিডনি বিন কাটার যন্ত্র ঘণ্টায় সাধারণ ২০-২২ একরের জায়গায় এখন চলছে মাত্র ৫-৬ একর। রাথ জানান, শেষ বৃষ্টিতে শুধু একটি জমিতেই শিমের মান নষ্ট হয়ে ২৫ হাজার ডলারের ক্ষতি হয়েছে; এ বছর সাধারণ ভুট্টা ও সয়াবিন চাষ করলেই হয়তো ভালো হতো।
রাথ ভুট্টা কাটা শুরু করেন ৩ অক্টোবর, সেচহীন বালুমাটির জমিতে, যেখানে খরায় গাছের কাণ্ড দুর্বল হয়ে পড়েছিল। এর কিছু জমিতে ফলন একরপ্রতি মাত্র ১০০ বুশেল, সেগুলোর জন্য বিমা দাবি করা হবে। সেচের জমির অবস্থা অনেক ভালো: ফলন একরপ্রতি ২৬০ থেকে ২৮০ বুশেল, দানার আর্দ্রতা ২৩ থেকে ৩০ শতাংশ। ন্যাশনাল কর্ন গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের ফলন প্রতিযোগিতার জন্য রাখা সেচের প্লটগুলোও তিনি কেটেছেন।
দুই কৃষকই এখন জমি থেকে পাথর তুলছেন। রাথ বলেন, শিম কাটার যন্ত্র মাটির নিচের পাথর ওপরে তুলে আনে; হাইড্রোলিক পাথর তোলার যন্ত্রটি কেনার খরচ উঠে এসেছে। কম্বাইন চালানোর আগে শিমের সারির মাঝের পরিষ্কার পথ ধরে যন্ত্রটি চালানো হয়। চাষ না করে বোনা (নো-টিল) জমির কৃষক উইভার স্কিড লোডারের সামনে লাগানো পাথর তোলার ফলা ব্যবহার করছেন।
প্রতিবেদনটি লিখেছেন ডিটিএনের ফসল প্রযুক্তি সম্পাদক পামেলা স্মিথ (Pamela Smith)।
ছবি: Wikideas1 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)
সূত্র: DTN / Progressive Farmer





মন্তব্য
(০)