দেশে ফলন বাড়লেও খাদ্যশস্যের পুষ্টিমান কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। নিবিড় চাষাবাদ, জলবায়ু পরিবর্তন আর মাটির পুষ্টিহীনতা মিলে এমন অবস্থা তৈরি করছে যে পর্যাপ্ত খাবার খেয়েও মানুষের শরীরে জিংক, আয়রন ও প্রোটিনের ঘাটতি থেকে যেতে পারে। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই উদ্বেগের কথা এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক দশকে উৎপাদন বাড়ানোর দিকেই বেশি নজর ছিল। এর মধ্যে বিভিন্ন খাদ্যশস্যে পুষ্টির ঘনত্ব কমার বিষয়টি সামনে এসেছে। বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড বেড়ে যাওয়া, উচ্চফলনশীল জাতের চাষ আর নিবিড় কৃষি ব্যবস্থার প্রভাব নিয়ে গবেষণায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের শিশু ও নারীদের মধ্যে জিংকের ঘাটতিকে উদ্বেগজনক বলা হয়েছে প্রতিবেদনে। পর্যাপ্ত ভাত খাওয়ার পরও প্রয়োজনীয় খনিজের অভাব দেখা দিতে পারে। খাবারে বৈচিত্র্য কম থাকা এবং চালের পুষ্টিমান কমে যাওয়াকে এর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
মাটির স্বাস্থ্যকে কৃষির আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ বলা হয়েছে। নিবিড় চাষ, জৈব পদার্থের ঘাটতি আর সারের অসম ব্যবহারে মাটির পুষ্টি উপাদানের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। মাটির উপকারী অণুজীবের কাজ ব্যাহত হলে গাছের পক্ষে খনিজ শোষণ করাও কঠিন হয়ে পড়ে।
সমাধান হিসেবে পুষ্টিসমৃদ্ধ জাত উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণে জোর দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) জিংকসমৃদ্ধ ব্রি ধান-৭৪ ও ব্রি ধান-১০০ জাত উদ্ভাবন করেছে। পাশাপাশি সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং চাল অতিরিক্ত ছাঁটা ও পলিশ করার প্রবণতা কমানোকেও গুরুত্বপূর্ণ বলা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ: জৈব সার ব্যবহার, সুষম মাত্রায় রাসায়নিক সার প্রয়োগ, শস্য পর্যায় মেনে চলা এবং পুষ্টিসমৃদ্ধ স্থানীয় ফসলের চাষ বাড়ানো। কৃষি উৎপাদনের সাফল্য মাপতে শুধু ফলনের পরিমাণ নয়, ফসলের পুষ্টিমানকেও হিসাবে আনার কথা বলেছেন তাঁরা।
কৃষি ও পুষ্টি খাতের সংশ্লিষ্টদের মতে, খাদ্যনিরাপত্তার সঙ্গে উৎপাদিত খাদ্যের পুষ্টিগুণ ধরে রাখাও জরুরি। তা না হলে খাদ্য উৎপাদন যথেষ্ট হলেও মানুষের প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করা কঠিন হবে।
প্রতিবেদনটি বাসসের বিশেষ প্রতিবেদন অবলম্বনে এগ্রিকেয়ার২৪ ডেস্কের।
ছবি: ROCKY / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: এগ্রিকেয়ার২৪





মন্তব্য
(০)