আগের মৌসুমে আলুতে লোকসানের পর এবার আগাম জাতের আলুতে ভালো দামের আশা করছেন দিনাজপুরের কৃষকেরা। কৃষি বিভাগের হিসাবে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত জেলার ১৩টি উপজেলায় প্রায় ৪ হাজার হেক্টর জমিতে আগাম আলুর বীজ রোপণ হয়েছে। লক্ষ্য, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে নতুন আলু বাজারে তোলা।
চলতি মৌসুমে জেলায় আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ৪৮ হাজার ৭৫০ হেক্টর, এর মধ্যে আগাম জাতের ১২ হাজার ২৫০ হেক্টর। কৃষি বিভাগ আশা করছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আগাম আলু রোপণের লক্ষ্য পূরণ হবে। আগাম আমন কাটার পর একই জমি তৈরি করে এখন আলু রোপণ চলছে।
খরচই কৃষকের প্রধান দুশ্চিন্তা। বীজের দাম গতবারের চেয়ে কম হলেও সার, কীটনাশক, সেচ, পরিবহন আর শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে। এক কৃষক শাহাদৎ হোসেন জানান, গত বছর যে গোবর সার এক ট্রলি ১ হাজার টাকায় কিনেছিলেন, এবার তা কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ২৫০ টাকায়। শ্রমিক সরদার আলিম উদ্দিনের হিসাবে, এক বিঘায় বীজ রোপণের মজুরি গত বছরের ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা থেকে বেড়ে এবার ২ হাজার ৫০০ টাকা।
ফুলবাড়ীর কৃষক মাহামুদ আলী গত বছর সাড়ে আট বিঘায় আলু করেছিলেন, এবার করছেন ১২ বিঘায়। তবে জ্বালানি তেল ও মজুরি বাড়ায় শেষ পর্যন্ত কত খরচ পড়বে আর কতটা লাভ থাকবে, তা নিয়ে তিনি অনিশ্চিত। সদর উপজেলার ঘুঘুডাঙ্গার কৃষক জুয়েল হোসেন বলেন, আগের মৌসুমের লোকসান এবার আগাম আলুতে পুষিয়ে নেওয়ার আশা করছেন তাঁরা।
কৃষি কর্মকর্তারা জানান, জাতভেদে রোপণের ৫৫ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে আগাম আলু বিক্রির উপযোগী হয়। কৃষকেরা অ্যাস্টেরিক, কার্ডিনাল, লাল পাকড়ি, রোমানা, ডায়মন্ড, সানশাইন ও বারি-৭ জাতের আলু লাগাচ্ছেন। বিরল উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা রুম্মান আক্তার বলেন, বেলে ও দো-আঁশ মাটি আলুর উপযোগী, সঠিক পরিচর্যায় ভালো ফলনের সম্ভাবনা আছে।
আগাম আলুর আরেক সুবিধা একই জমিতে বাড়তি ফসল। কোথাও কোথাও আলুর চারা গজানোর আগেই সরিষা, ঢেঁড়স ও লালশাকের বীজ ছিটিয়ে দেওয়া হচ্ছে, আলু তোলার পর সেই জমিতে রবি মৌসুমের সবজি হয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, বৃহত্তর দিনাজপুরের উৎপাদিত আলুর অর্ধেকের বেশি ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় যায়।
প্রতিবেদনটি জাগো নিউজের দিনাজপুর প্রতিনিধি এমদাদুল হক মিলনের।
ছবি: Hridoye Mati O Manush / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0); রংপুরে আলুর বীজ রোপণের প্রতীকী ছবি
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪





মন্তব্য
(০)