বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৬১ সালের ১৬ অক্টোবর, বিশ্ব খাদ্য দিবসের দিনটিতে। ৬৫ বছরে পা রাখার আগে দেশ রূপান্তরের একটি নিবন্ধে সংস্থাটির বীজ, সেচ ও সার কার্যক্রমের হিসাব তুলে ধরা হয়েছে।
বীজে: ১৯৬২-৬৩ সালে প্রায় ১৩ দশমিক ৮ টন বীজ দিয়ে শুরু; ২০২৫-২৬ সালে ধান, গম, ভুট্টা, আলু, পাট, ডাল, মসলা, সবজি ও তেলবীজের ১ দশমিক ৪৪ লাখ টন বীজ উৎপাদন এবং ১ দশমিক ৪৭ লাখ টন কৃষক পর্যায়ে বিতরণ। সংস্থার আছে ৩৪টি বীজ উৎপাদন খামার, ৯২টি চুক্তিবদ্ধ চাষি জোনে ১ লাখ ৫ হাজার ৭৭৫ জন চুক্তিবদ্ধ চাষি, ৬৫টি প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র, ৩০টি আলুবীজ হিমাগার ও আটটি টিস্যু কালচার ল্যাব। ৪০টি জাত বিএডিসির নামে নিবন্ধিত, জোর দেওয়া হচ্ছে লবণাক্ততা, খরা ও জলমগ্নতা সহিষ্ণু জাতের বীজে।
সেচে: ১৯৬১-৬২ সালে ১ হাজার ৫৫৫টি শক্তিচালিত পাম্প দিয়ে আধুনিক সেচের শুরু। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২২ হাজার হেক্টরে সেচ সুবিধা ও সম্প্রসারণ, ৮২০ কিলোমিটার খাল খনন বা পুনঃখনন, ৬৬২টি সেচ অবকাঠামো, ৪৯ কিলোমিটার ফসল রক্ষা বাঁধ, ১৬১টি সৌরচালিত সেচ পাম্প ও ৪৭৮টি বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ কাঠামো হয়েছে। ভূগর্ভস্থ পানির বদলে ভূউপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়ানোয় জোর দেওয়া হচ্ছে।
সারে: ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিএডিসি ২৬ দশমিক ২৭ লাখ টন টিএসপি, এমওপি ও ডিএপি আমদানি করেছে, বিতরণ করেছে ২৪ দশমিক ১ লাখ টন; জাতীয় চাহিদার ৭৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ নন-ইউরিয়া সার এসেছে বিএডিসি থেকে।
নতুন প্রযুক্তিতে: নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে চারা উৎপাদনের জন্য এ পর্যন্ত ৮২টি পলিশেড হয়েছে, জুন ২০২৮-এর মধ্যে আরও ৬০টির পরিকল্পনা; প্রচণ্ড শীত, গরম বা অতিবৃষ্টিতেও এতে চারা উৎপাদন চলে। আম ও অন্যান্য ফল-সবজি রপ্তানিযোগ্য করতে গাবতলীতে বাষ্পতাপ প্রয়োগের (ভ্যাপার হিট ট্রিটমেন্ট) প্ল্যান্ট বসানো হয়েছে।
পাটবীজে স্বয়ংসম্পূর্ণতার চার বছরের পরিকল্পনায় ২০২৬-২৭ মৌসুমে ২ হাজার ২১০ টন বীজ উৎপাদন চলছে। ২০২৫-২৬ মৌসুমে দেশে ভুট্টা বীজের চাহিদা ছিল ১১ হাজার ৪৫৮ টন; বিএডিসি সে মৌসুমে কম দামে হাইব্রিড ভুট্টা বি-৩৩৫৫ জাতের বীজ সরবরাহ করেছে, যা আমদানিনির্ভরতা কমানোর পথ খুলছে বলে নিবন্ধে বলা হয়েছে।
ছবি: Press Information Department / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন); গাবতলীতে বিএডিসির বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ, আগস্ট ২০২৫
সূত্র: দেশ রূপান্তর





মন্তব্য
(০)