জ্বর কমলে রোগী সেরে উঠছে, এই ধারণা ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে বিপজ্জনক হতে পারে। প্রথম আলোয় ফ্যামিলি ফিজিশিয়ান ডা. তারেক সালাহ্উদ্দিন লিখেছেন, ডেঙ্গু রোগীর জ্বর নামার সময়টিই অনেক সময় সবচেয়ে ঝুঁকির; তখন ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার ক্রিটিক্যাল ফেজ শুরু হতে পারে, যখন প্লাজমা লিকেজ হয়।
প্লাজমা হলো রক্তের তরল অংশ। গুরুতর ডেঙ্গুতে সূক্ষ্ম রক্তনালির দেয়াল সাময়িকভাবে বেশি ভেদ্য হয়ে যায়, ফলে প্লাজমা বেরিয়ে টিস্যু, ফুসফুসের চারপাশ বা পেটে জমতে পারে। রক্ত ঘন হয়, রক্তচাপ পড়ে যেতে পারে, দেখা দিতে পারে ডেঙ্গু শক। তখন কিডনি, লিভার, মস্তিষ্ক ও হৃদ্যন্ত্র পর্যাপ্ত রক্ত ও অক্সিজেন পায় না; গুরুতর ক্ষেত্রে একাধিক অঙ্গ বিকল হয়ে মৃত্যুও হতে পারে।
চিকিৎসকের মতে, রোগী ও স্বজনদের নজর প্রায়ই শুধু প্লাটিলেটের সংখ্যায় আটকে থাকে, অথচ রোগের তীব্রতা বুঝতে হেমাটোক্রিট বেশি সহায়ক। হেমাটোক্রিট রক্তে লোহিত কণিকার অনুপাত দেখায়; প্লাজমা বেরিয়ে গেলে তা বাড়তে পারে। এর পাশাপাশি রক্তচাপ, পালস প্রেশার, প্রস্রাবের পরিমাণ, হাত-পায়ের রক্তসঞ্চালন ও রোগীর সার্বিক অবস্থা দেখতে হয়।
ফ্লুইড ব্যবস্থাপনা নিয়েও সতর্ক করেছেন তিনি। সমাধান শুধু স্যালাইন দেওয়া নয়: কম ফ্লুইডে শক ও অঙ্গের ক্ষতি হতে পারে, আবার বেশি দিলে পরে ফুসফুসে পানি জমা, শ্বাসকষ্ট বা হৃদ্যন্ত্রের জটিলতা দেখা দিতে পারে। লিকেজ থামলে বেরিয়ে যাওয়া তরল আবার রক্তে ফিরে আসে, তখন আগের বাড়তি স্যালাইন বিপদ বাড়ায়। মূলনীতি হলো সঠিক সময়ে সঠিক পরিমাণ এবং ঘন ঘন রোগীর অবস্থা যাচাই। মুখে পর্যাপ্ত তরল নিতে পারলে সব সময় শিরায় ফ্লুইড লাগে না।
অনেকে জ্বর কমার পর বা হাসপাতাল ছাড়ার পর আবার অসুস্থ হন। ডা. তারেক সালাহ্উদ্দিনের পরামর্শ, জ্বর কমার পর তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, অস্বাভাবিক ঝিমুনি বা অস্থিরতা, হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, রক্তপাত, মাথা ঘোরা বা প্রস্রাব কমে যাওয়ার যেকোনোটি দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।
প্রতিবেদনটি প্রথম আলোয় প্রকাশিত ডা. তারেক সালাহ্উদ্দিনের (ফ্যামিলি ফিজিশিয়ান, বাংলাদেশ ক্যানসার অ্যান্ড প্যালিয়েটিভ কেয়ার সেন্টার, ধানমন্ডি) লেখা অবলম্বনে।
ছবি: James Gathany, CDC / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: প্রথম আলো




মন্তব্য
(০)