জলবায়ুসহিষ্ণু জোয়ারের জাত দ্রুত উদ্ভাবনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কাজে লাগাতে কয়েকটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে গুগল ডিপমাইন্ড (Google DeepMind) ও আন্তর্জাতিক শুষ্ক অঞ্চল ফসল গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইক্রিস্যাট (ICRISAT)। ১৬ অক্টোবর খবরটি দিয়েছে গ্লোবাল এগ্রিকালচার।
অংশীদারেরা জোয়ারের একটি উন্মুক্ত জিন-মানচিত্র (জেনেটিক অ্যাটলাস) তৈরি করবে। শুষ্ক অঞ্চলে ব্যাপকভাবে চাষ হওয়া এই পুষ্টিকর ফসলের কোন জিনগত মিশ্রণ বদলে যাওয়া জলবায়ুতে ভালো করবে, তা খুঁজে পেতে প্রজননবিদদের সাহায্য করবে মানচিত্রটি। এতে ব্যবহার হবে ইক্রিস্যাটের জিনব্যাংকের নমুনা, যেখানে ৯০টির বেশি দেশের ৪৪ হাজারের বেশি বীজ সংগ্রহ আছে। প্রচলিত প্রজননে নতুন জাত পেতে এক দশক বা তার বেশি লেগে যায়, জিন বিশ্লেষণের সঙ্গে মেশিন লার্নিং মিলিয়ে সেই সময় কমানোই লক্ষ্য। গুগল ডট ওআরজির সহায়তায় চলা এই কাজে আছে হাডসনআলফা ইনস্টিটিউট ও ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ও।
গুগল ডিপমাইন্ড ইক্রিস্যাটে তিন বছরের একটি পোস্টডক্টরাল ফেলোশিপের অর্থ দেবে, যা ভারতে এবং যুক্তরাজ্যের বাইরে তাদের প্রথম। গবেষণায় ছোলা, চিনাবাদাম ও অড়হরের জিনোম বিশ্লেষণের পদ্ধতিও খোঁজা হবে। ইক্রিস্যাটের গবেষণা ও উদ্ভাবন বিভাগের উপমহাপরিচালক স্ট্যানফোর্ড ব্লেড বলেন, জোয়ারের মতো স্থানীয় জলবায়ুসহিষ্ণু ফসলের বৈশ্বিক সম্ভাবনা খুলে দেওয়াই এই সহযোগিতার লক্ষ্য।
এর পাশাপাশি গুগল তাদের অ্যানথ্রোকৃষি দলের তৈরি কৃষি বোঝার এআই মডেল এখন ১১টি দেশে চালু করছে। ভারতের গুজরাটে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যামনেক্স রাজ্য সরকারের কৃষি প্রগতি প্ল্যাটফর্মে এই মডেল যুক্ত করেছে। গুগলের হিসাবে, গত এক বছরে প্ল্যাটফর্মটি ছয় লাখের বেশি কৃষককে ফসল, মাটি, বালাই ও আবহাওয়া নিয়ে ৯০ কোটির বেশি এসএমএস পরামর্শ পাঠিয়েছে, যা ১ কোটি ৪০ লাখ হেক্টরের বেশি জমির চাষে কাজে লেগেছে।
মডেলগুলো এখন ডেভেলপার, স্টার্টআপ ও গবেষকদের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে উন্মুক্ত। ওপেনঅ্যাগ্রিনেট জোট এগুলো দিয়ে এমন একটি অ্যাপ পরীক্ষা করছে, যা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা কৃষিতথ্য কৃষকের নিজের ভাষায় পৌঁছে দেবে।
ছবি: Ezeu / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: গ্লোবাল এগ্রিকালচার




মন্তব্য
(০)