কৃষকদের জন্য সরকারি খরচে বসানো ফার্মার্স মিনি কোল্ড স্টোরেজগুলো কার্যকর হয়ে ওঠেনি—কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) এক তদন্ত প্রতিবেদনে এমন চিত্র উঠে এসেছে। দেশ রূপান্তরের নিজস্ব প্রতিবেদক জানাচ্ছেন, উদ্যোক্তারা অতিরিক্ত ফসল সংরক্ষণ করে পরে ভালো দামে বিক্রি করবেন—এই ধারণায় তৈরি স্টোরেজগুলোর কোনোটি বন্ধ, কোনোটি চললেও কাঙ্ক্ষিত ফল দিচ্ছে না, আর দুই প্রকল্পের ২৬ কোটি টাকার খরচ প্রশ্নের মুখে।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের দক্ষিণ বাগমারার উদ্যোক্তা কৃষক মো. আবুল কালাম আজাদের হিমাগারে ১০ কৃষকের দল সবজি রাখলেও তা দ্রুত রং হারাচ্ছে, কুঁচকে যাচ্ছে, আলুতে অঙ্কুর গজাচ্ছে; সোলার প্যানেল না থাকায় উচ্চ বিদ্যুৎ বিল দিয়েও মান ঠিক থাকছে না। মানিকগঞ্জের সিংগাইরের উদ্যোক্তা আতিকুর রহমানের কনটেইনার-স্টোরেজে পরিদর্শনে মিলেছে মাত্র ৫০ কেজি আলু, পেয়ারা ও ড্রাগন ফল—আলুতে ১৫ দিনে অঙ্কুর, পেয়ারা সাত দিনের বেশি রাখা যায় না।
তদন্ত দল সারা দেশে ২৬টি স্টোরেজ পরিদর্শন করে দেখেছে অনেকগুলো অকার্যকর, চালুগুলোও খুঁড়িয়ে চলছে এবং সৌরবিদ্যুতে চলার কথা থাকলেও বেশির ভাগ গ্রিড সংযোগে চলছে। সংরক্ষিত পণ্যের পরিমাণ, বাজারজাতকরণ সুবিধা ও পরিচালন ব্যয় পর্যালোচনায় বর্তমান ব্যবহারের মাত্রায় স্টোরেজ স্থাপন বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক নয়—তাই বর্তমান প্রেক্ষাপটে আর সম্প্রসারণ না করে অধিকতর গবেষণার পর সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুপারিশ করেছে দল।
বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের প্রায় ১২ কোটি টাকায় ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে চলতি জুন পর্যন্ত চলা প্রথম প্রকল্পে ১০০টি ছোট স্টোরেজ হলেও বিদ্যুৎ-সংযোগ না থাকায় ৫০টি এখনো সচল হয়নি; ২০২৫ সালের অক্টোবরে শুরু ১৪ কোটি টাকার দ্বিতীয় প্রকল্পে ৮০টির মধ্যে ৫০টির নির্মাণ শেষ। অর্থাৎ ১৮০টির জায়গায় ১৫০টি হয়েছে, যার বেশির ভাগ উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারছে না; স্থান নির্ধারণ নিয়েও মাঠে কৃষকদের অসন্তোষ আছে।
কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ গত ১৫ জুন বলেছিলেন, এক-দুই বছরে ২০ কৃষকের কমিটি দিয়ে চালানো সম্পূর্ণ সৌরবিদ্যুৎচালিত ২ হাজার ছোট হিমাগার হবে, উপকৃত হবেন প্রায় ৪০ হাজার কৃষক; সেই লক্ষ্যে ‘সৌরশক্তিনির্ভর মিনি হিমাগার ও ফসল সংগ্রহোত্তর ব্যবস্থাপনা প্রকল্প’-এর ডিপিপিতে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। দুই ছোট প্রকল্পের নেতিবাচক ফলাফলের পর বড় প্রকল্পটি আদৌ নেওয়া হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত নেবে কৃষি মন্ত্রণালয়।
ডিএইর অতিরিক্ত পরিচালক মো. রওশন আলমের আহ্বায়কত্বে গঠিত সরেজমিন অনুসন্ধান ও প্রভাব মূল্যায়ন কমিটিতে ছিলেন ড. মো. শাখাওয়াত হোসেন শরীফ, ড. মো. মসিউর রহমান, মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ও মো. আবু সাইয়েম। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কমিটির এক কর্মকর্তা বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশেই মূল্যায়ন প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে, যা পরবর্তী নীতি গ্রহণে সহায়ক হবে।
সূত্র: দেশ রূপান্তর — প্রতিবেদন: নিজস্ব প্রতিবেদক





মন্তব্য
(০)