যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রচলিত প্রায় সব ধরনের বিড়ালের খাবারে সিসা, পারদ, আর্সেনিক ও ক্যাডমিয়ামের মতো ক্ষতিকর ভারী ধাতু, আগাছানাশক এবং প্লাস্টিকে ব্যবহৃত রাসায়নিক পাওয়া গেছে। ভোক্তা পণ্য পরীক্ষাকারী অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ক্লিন লেবেল প্রজেক্টের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের বরাতে খবরটি দিয়েছে সিএনএন।
প্রতিষ্ঠানটি ৬২টি ব্র্যান্ডের ১০০টি পণ্য পরীক্ষা করেছে। ৯৯ শতাংশ নমুনায় সিসা, ৯৬ শতাংশে ক্যাডমিয়াম এবং ৯৪ শতাংশে আর্সেনিক মিলেছে। শুকনো, ভেজা ও ফ্রিজ-ড্রাইড, সব ধরনের খাবারেই এসব উপাদান ছিল, "প্রাকৃতিক" বা "উচ্চ পুষ্টিগুণ" বলে বিক্রি হওয়া পণ্যেও। শুকনো খাবারে সিসার মাত্রা ভেজা খাবারের প্রায় তিন গুণ।
প্রোটিনের উৎস অনুযায়ী ঝুঁকির ধরন বদলেছে। সামুদ্রিক মাছের খাবারে পারদ অন্য প্রোটিনের তুলনায় প্রায় ১৮ গুণ ও ক্যাডমিয়াম ২.৫ গুণ; সামুদ্রিক মাছের ভেজা খাবারে পারদ মুরগির ভেজা খাবারের চেয়ে প্রায় ২৮ গুণ পর্যন্ত বেশি হতে পারে। মুরগিভিত্তিক খাবারে পারদ ও ক্যাডমিয়াম কম হলেও সিসা ও আগাছানাশক বেশি। প্রতিষ্ঠানের মানদণ্ডে মুরগিভিত্তিক খাবারের প্রায় ৮৫ শতাংশ উত্তীর্ণ হয়েছে, সামুদ্রিক মাছভিত্তিকের মাত্র ২৫.৭ শতাংশ।
কৃষির জন্য প্রাসঙ্গিক তথ্যটি হলো, ৩৭ শতাংশ খাবারে আগাছানাশক গ্লাইফোসেট পাওয়া গেছে, আর প্রথম ১০ উপাদানে উদ্ভিজ্জ উপাদান যত বেশি, গ্লাইফোসেটও তত বেশি। পরীক্ষকেরা বলছেন, জৈব পদ্ধতিতে না চাষ করা শাকসবজি ও উদ্ভিজ্জ উপাদানের মাধ্যমেই এটি খাবারে ঢুকছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ক্যানসার গবেষণা সংস্থা গ্লাইফোসেটকে মানুষের জন্য সম্ভাব্য ক্যানসার সৃষ্টিকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছে। অর্ধেকের বেশি খাবারে প্লাস্টিক রাসায়নিক ডিইএইচপিও মিলেছে, কৌটা ও পাউচে সবচেয়ে বেশি।
প্রতিবেদনের প্রধান লেখক ও ক্লিন লেবেল প্রজেক্টের নির্বাহী পরিচালক মলি হ্যামিল্টন বলেন, বেশির ভাগ বিড়াল প্রতিদিন প্রায় একই খাবার খায়, তাই এসব উপাদান শরীরে ধীরে ধীরে জমে; আর বয়স্ক বিড়ালের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগ। টক্সিক ফ্রি ফিউচারের বিজ্ঞান পরিচালক রায়েন বাবাদি গবেষণাটিকে সুপরিচালিত বলেছেন। প্রস্তুতকারকদের সংগঠন পেট ফুড ইনস্টিটিউট সিএনএনকে জানিয়েছে, প্রস্তুতকারকেরা কঠোর খাদ্য নিরাপত্তা মান মেনে চলেন।
প্রতিবেদনটি ইত্তেফাক ডিজিটাল ডেস্কের, সিএনএনের সূত্রে।
ছবি: Vmenkov / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: ইত্তেফাক





মন্তব্য
(০)