অক্টোবর মাসের জন্য ১২ কেজি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১,৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। রোববার বিকেলে ঘোষিত এ দাম সন্ধ্যা থেকেই কার্যকর হয়েছে। সেপ্টেম্বরে এই সিলিন্ডারের দাম ছিল ১,৫৮৫ টাকা।
একই হারে সাড়ে ৫ কেজি থেকে ৪৫ কেজি পর্যন্ত সব আকারের সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে। গাড়িতে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটার ৭৩ টাকা ৯ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা। সরকারি কোম্পানির সাড়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৮২৫ টাকায় অপরিবর্তিত, তবে এর সরবরাহ এতই সীমিত যে বেশির ভাগ ভোক্তা তা পান না।
বিইআরসি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ায় দেশেও সমন্বয় করা হয়েছে; কমিশন প্রতি মাসে আন্তর্জাতিক দামের সঙ্গে মিলিয়ে এলপিজির দাম ঠিক করে।
দাম বাড়ার ঘোষণা এল এমন সময়ে, যখন দেশের নানা এলাকায় এলপিজির সংকট চলছে। কোথাও বাড়তি দাম দিয়েও গ্যাস মিলছে না, কোথাও ১২ কেজির সিলিন্ডার ২,২০০ থেকে ২,৫০০ টাকায় বিক্রির অভিযোগ আছে। সরবরাহ কমিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগে বিইআরসি শনিবার ১২টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের সেপ্টেম্বরের আমদানি ও বিক্রির তথ্য রোববারের মধ্যে চেয়েছে। কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, তথ্য পাওয়ার পর পরিস্থিতি বুঝে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এলপিজি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির অভিযোগ, ২০ সেপ্টেম্বর থেকে আমদানিকারকেরা সরবরাহ প্রায় ৮০ শতাংশ কমিয়ে দেন এবং ২৫ সেপ্টেম্বরের পর কয়েকটি ডিপো থেকে সরবরাহ পুরো বন্ধ হয়ে যায়। আমদানিকারকেরা এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন, তাঁরা নির্ধারিত দামেই পরিবেশকদের গ্যাস দিচ্ছেন; কারসাজি হলে তা পরিবেশক ও খুচরা পর্যায়ে হতে পারে।
বিইআরসির হিসাবে, ২০২১ সালের ১২ এপ্রিল প্রথম মাসভিত্তিক দাম নির্ধারণের সময় ১২ কেজির সিলিন্ডার ছিল ৯৭৫ টাকা। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তা ছিল ১,২৫৩ টাকা, এপ্রিলে দুই দফায় বেড়ে ওঠে ১,৯৪০ টাকায়। এরপর জুন ও জুলাইয়ে কমে, আগস্টে আবার বেড়ে ১,৫৯৮ টাকা এবং সেপ্টেম্বরে ১,৫৮৫ টাকা হয়।
প্রতিবেদনটি সমকালের।
ছবি: Tasma3197 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: সমকাল





মন্তব্য
(০)