হার্ট অ্যাটাক, স্টেন্ট, বাইপাস সার্জারি বা হার্ট ফেইলিউরের পর অনেক রোগীর ফিটনেস কমে যায়, অল্প পরিশ্রমে হাঁপিয়ে ওঠেন। সিওপিডি, অ্যাজমা বা ফুসফুসের রোগে শ্বাসকষ্টের ভয়ে অনেকে নিজেরাই হাঁটাচলা কমিয়ে দেন। প্রথম আলোয় গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজের ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. সাকিব আল নাহিয়ান লিখেছেন, শ্বাসকষ্ট, ভয়, কম হাঁটা আর পেশির দুর্বলতার এই চক্র ভাঙার উপায় কার্ডিওপালমোনারি রিহ্যাবিলিটেশন।
তাঁর ব্যাখ্যায়, রিহ্যাবিলিটেশন মানে শুধু কিছু ব্যায়াম নয়। এটি চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে চলা একটি কর্মসূচি, যেখানে রোগীর হার্ট, ফুসফুস, পেশি ও কর্মক্ষমতা বিবেচনা করে পরিকল্পনা করা হয়, তাই একেকজনের জন্য তা একেক রকম।
শুরুতে দেখা হয় রোগী কতটা পরিশ্রম সহ্য করতে পারেন। প্রয়োজনে ছয় মিনিট হাঁটার পরীক্ষা, হৃৎস্পন্দন, রক্তচাপ, অক্সিজেন স্যাচুরেশন, শ্বাসকষ্ট ও আরপিই (রেটিং অব পারসিভড এক্সারশন) পর্যবেক্ষণ করা হয়। এরপর সক্ষমতা অনুযায়ী ধাপে ধাপে হাঁটা বা ট্রেডমিল, সাইক্লিং, অ্যারোবিক কন্ডিশনিং, স্ট্রেংথ ট্রেনিং ও শ্বাসের ব্যায়াম করানো হয়।
লক্ষ্য হলো রোগী যেন আবার হাঁটতে, সিঁড়ি বেয়ে উঠতে, বাজার করতে এবং নিজের কাজ নিজে করতে পারেন। চিকিৎসক লিখেছেন, হার্ট অ্যাটাকের পর বেশির ভাগ রোগী মনোবল হারান, আবার অ্যাটাক হওয়ার ভয়ে থাকেন। তাই স্বাস্থ্যশিক্ষা, কাউন্সেলিং, জীবনযাত্রার পরিবর্তন ও মানসিক সহায়তা এই প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ধূমপান বন্ধ, স্বাস্থ্যকর খাবার, ওজন নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত ওষুধ খাওয়াও জরুরি।
হার্ট অ্যাটাকের পর, পিসিআই বা স্টেন্টিংয়ের পর, বাইপাস সার্জারির পর এবং করোনারি আর্টারি ডিজিজ ও হার্ট ফেইলিউরের কিছু রোগীর ক্ষেত্রে কার্ডিয়াক রিহ্যাবিলিটেশন বিবেচনা করা হয়। তবে সবার জন্য এক পদ্ধতি চলে না; রোগীর শারীরিক ও মানসিক অবস্থা, কর্মক্ষমতা আর ঝুঁকি দেখে পরিকল্পনা করতে হয়, এ জন্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে বলেছেন তিনি।
ছবি: Hermes Ilarraza / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: প্রথম আলো




মন্তব্য
(০)