বাস স্টপে, কফি হাউসে বা সকালের হাঁটার পথে অন্যের সিগারেটের ধোঁয়া নাকে এলে অনেকে ভাবেন, আমি তো ধূমপান করছি না। কলকাতার সংবাদ প্রতিদিনে প্রকাশিত কলামে প্রাবন্ধিক আদিত্য ঘোষ লিখেছেন, ততক্ষণে ক্ষতি হয়ে গেছে, কারণ এটিই পরোক্ষ ধূমপান বা সেকেন্ডহ্যান্ড স্মোক।
লেখক এক সাম্প্রতিক গবেষণার হিসাব উদ্ধৃত করেছেন: ২০২৩ সালে ভারতে প্রায় ৪৪ কোটি ৪০ লাখ মানুষ অন্যের তামাকের ধোঁয়ার সংস্পর্শে এসেছে, আর সে বছর পরোক্ষ ধূমপান-সম্পর্কিত রোগে আনুমানিক ৩ লাখ ২৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ১৯৯০ সালের তুলনায় সংস্পর্শের হার কমলেও জনসংখ্যা বাড়ায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। একই হিসাবে ২০২৩ সালে বিশ্বে প্রায় ২৭১ কোটি মানুষ পরোক্ষ ধোঁয়ার সংস্পর্শে এসেছে, তাদের প্রায় ৭৬ কোটি ৭০ লাখ শিশু, আর মৃত্যু হয়েছে আনুমানিক ১৬ লাখ ৬০ হাজার মানুষের।
লেখকের ব্যাখ্যায়, সিগারেটের ধোঁয়ার একটি অংশ সরাসরি আশপাশের বাতাসে মিশে পাশের মানুষের শ্বাসে ঢোকে। এতে থাকে নিকোটিন, কার্বন মনোক্সাইডসহ নানা ক্ষতিকর রাসায়নিক, যার কিছু ক্যানসার সৃষ্টিকারী হিসেবে পরিচিত; নিয়মিত সংস্পর্শে ফুসফুসের ক্ষতির পাশাপাশি হৃদ্রোগ, স্ট্রোক ও শ্বাসযন্ত্রের রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
তাঁর মতে, কোথায় ধূমপান নিষিদ্ধ তা স্পষ্টভাবে জানানো, নজরদারি বাড়ানো এবং আইন ভাঙলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। বাস স্টপ, রেলস্টেশন বা উদ্যানে একটি সিগারেটের ধোঁয়া হয়তো কোনো শিশু, অন্তঃসত্ত্বা নারী বা হৃদ্রোগীর ফুসফুসে পৌঁছাচ্ছে, তাই জনবহুল জায়গায় ধূমপানকে ‘সামান্য অপরাধ’ বলে এড়িয়ে যাওয়া চলে না বলে লিখেছেন তিনি।
এই লেখার মতামত লেখকের নিজস্ব।
ছবি: CEphoto, Uwe Aranas / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন



মন্তব্য
(০)