বাজারে সবুজের পাশাপাশি লাল, হলুদ ও কমলা ক্যাপসিকাম পাওয়া যায়, দামেও থাকে ফারাক। বাংলা ট্রিবিউনের জীবনযাপন ডেস্ক জানাচ্ছে, এগুলো আলাদা জাতের ফল নয়, একই ক্যাপসিকামের পাকার বিভিন্ন ধাপ। গাছে ফল প্রথমে সবুজ থাকে, পাকতে পাকতে রং বদলে হলুদ, কমলা এবং শেষে লাল হয়। এর সঙ্গে স্বাদ ও পুষ্টিতেও কিছুটা হেরফের ঘটে।
আমেরিকায় যা বেলপেপার, হিন্দিতে সিমলা মির্চ, আমাদের দেশে সেটিই ক্যাপসিকাম। সাধারণ মরিচের মতো ঝাল নেই, কারণ ঝালের জন্য দায়ী ক্যাপসাইসিন এতে খুব কম।
সবুজ ক্যাপসিকাম কম পাকা অবস্থায় তোলা হয়, তাই স্বাদ খানিকটা কষা বা হালকা তেতো আর গঠন শক্ত। এতে ভিটামিন সি, আঁশ ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট থাকে। হলুদ ও কমলা ক্যাপসিকাম মিষ্টি, এতে লুটিন ও জিয়াজ্যানথিনের মতো ক্যারোটিনয়েড থাকে, যা চোখের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে লেখাটি সতর্ক করেছে, শুধু কোনো এক রঙের ক্যাপসিকাম খেলেই চোখের রোগ বা ছানি ঠেকানো যায়, এমন নয়।
সবচেয়ে পাকা লাল ক্যাপসিকাম মিষ্টি ও রসালো। এতে ক্যাপস্যানথিন নামের রঞ্জক, ভিটামিন সি ও বিটা-ক্যারোটিন থাকে। বিটা-ক্যারোটিন থেকে শরীরে ভিটামিন এ তৈরি হয়, যা স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য দরকার।
চাষি ও ক্রেতার জন্য দামের হিসাবটিও স্পষ্ট। সবুজ ক্যাপসিকাম কম পাকা অবস্থায় তোলা যায় বলে দাম সাধারণত কম। লাল ক্যাপসিকাম গাছে পাকতে বেশি সময় নেয়, তাই উৎপাদন খরচ বাড়ে। হলুদ ও কমলার দাম চাষের খরচ, জোগান ও চাহিদার ওপর ওঠানামা করে। ক্যাপসিকামের নিচে তিনটি না চারটি খাঁজ, তা দিয়ে স্বাদ বা পুষ্টি আলাদা হয়, এমন ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই; খাঁজের সংখ্যা গাছের বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করে।
ক্যাপসিকাম কাঁচা স্যালাডে বা অল্প তেলে হালকা রান্না করে খাওয়া যায়। বেশিক্ষণ রান্না করলে ভিটামিন সি-র মতো তাপে নষ্ট হওয়া উপাদান কমে যেতে পারে। তাই সব রঙের ক্যাপসিকাম পালা করে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, আর দেখতে নিখুঁত না হলেও টাটকা ক্যাপসিকাম কেনা যায়।
ছবি: তিন জাতের ক্যাপসিকাম (Capsicum annuum), Luc Viatour / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন





মন্তব্য
(০)