আলুর সবচেয়ে ক্ষতিকর রোগগুলোর একটি নাবি ধসা (লেট ব্লাইট) মোকাবিলায় আফ্রিকার দেশগুলোকে এক সুতোয় বাঁধতে যাত্রা শুরু করেছে আফ্রিকাব্লাইট নেটওয়ার্ক (AfricaBlight Network)। আন্তর্জাতিক আলু কেন্দ্র (সিআইপি) জানিয়েছে, ২৭ অক্টোবর কেনিয়ার নাইভাশায় ত্রয়োদশ বিশ্ব আলু কংগ্রেসে আফ্রিকার নেতৃত্বাধীন এই উদ্যোগের উদ্বোধন করেন বিশ্ব আলু কংগ্রেসের সভাপতি ড. পিটার ভ্যানডারজাগ (Peter VanderZaag)। গবেষক, কৃষি প্রতিষ্ঠান ও আলু খাতের অংশীদারেরা এতে যুক্ত।
ফাইটোফথোরা ইনফেস্টানস (Phytophthora infestans) নামের জীবাণুঘটিত এই রোগে বিশ্বে বছরে আনুমানিক ৩০০ কোটি থেকে ৭০০ কোটি ডলারের ক্ষতি হয়। যেখানে কৃষকের হাতে রোগ প্রতিরোধী জাত, নির্ভরযোগ্য রোগ পূর্বাভাস আর কার্যকর ফসল সুরক্ষার ব্যবস্থা কম, সেখানে ক্ষতি সবচেয়ে বেশি। ফলন কমানোর পাশাপাশি খরচও বাড়ায় এই রোগ, কারণ কৃষককে বারবার ছত্রাকনাশক ছিটাতে হয়। সিআইপির হিসাবে, ছত্রাকনাশকের খরচ কখনো আলুর মোট ফসলমূল্যের ১০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত দাঁড়ায়।
নেটওয়ার্কটি গড়া হয়েছে এশিয়ার এশিয়াব্লাইট, লাতিন আমেরিকার তিজন লাতিনো এবং ইউরোপের ইউরোব্লাইটের আদলে। প্রথম অগ্রাধিকারের দেশ কেনিয়া, রুয়ান্ডা, ইথিওপিয়া ও ইরিত্রিয়া। পরিকল্পনায় আছে জাতীয় সমন্বয়ক ও অংশীদার ঠিক করা, জ্ঞান বিনিময় ও যৌথ গবেষণা, আবহাওয়াভিত্তিক রোগ পূর্বাভাস আরও কৃষকের কাছে পৌঁছানো, কৃষক প্রশিক্ষণ জোরদার করা এবং রোগ নজরদারি ও জীবাণুর জিনগত বৈশিষ্ট্য নির্ণয়ে অংশীদারত্ব খোঁজা।
রোগ পর্যবেক্ষণ হবে জাতীয় কর্মসূচিগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে, যার মধ্যে আছে কেনিয়া কৃষি ও প্রাণিসম্পদ গবেষণা সংস্থা (কালরো)। সিআইপির উল্লেখ করা অংশীদারদের মধ্যে আছে সিজিআইএআর ক্যাপাসিটি শেয়ারিং অ্যাক্সিলারেটর (ক্যাপশা), যা এশিয়া ও আফ্রিকার মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়ে সাহায্য করবে; এ ছাড়া চীনের বেইজিং হুইসি জুনদা টেকনোলজি, বেলজিয়ামের গবেষণা ও কৃষি পরামর্শ প্রতিষ্ঠান কারাহ এবং জেমস হাটন ইনস্টিটিউট।
সিআইপির উদ্ভিদ স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান ড. কল্পনা শর্মা বলেন, "নাবি ধসা কার্যকরভাবে ঠেকাতে শুধু সহনশীল জাত আর ছত্রাকনাশক পাওয়াই যথেষ্ট নয়।" সিআইপির আফ্রিকা অঞ্চলের পরিচালক ড. জয়েস মারু বলেন, এই উদ্যোগ দেশ ও অংশীদারদের এক জায়গায় আনার সুযোগ তৈরি করেছে।
নেটওয়ার্কের জন্য এখনো কোনো অর্থ বরাদ্দ হয়নি। সিআইপি বলছে, এটি চালিয়ে নিতে প্রশিক্ষণ, কর্মশালা, কারিগরি সহযোগিতা ও জাতীয় সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য অর্থ লাগবে, আর সে জন্য জাতীয় তহবিল সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী ও বেসরকারি খাতের কাছে যাওয়া হবে। ক্যাপশার মাধ্যমে নেটওয়ার্কটি এশিয়ার অভিজ্ঞতা কাজে লাগাবে, যেখানে একই জীবাণুর বিরুদ্ধে এশিয়াব্লাইট নেটওয়ার্ক আগে থেকেই কাজ করছে।
ছবি: ডোরে জাতের আলুগাছে নাবি ধসার আক্রমণ, Rasbak / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: International Potato Center





মন্তব্য
(০)