পেঁয়াজ মজুত রাখলে পচন, অঙ্কুর গজানো আর ওজন কমে যাওয়ায় কৃষকের লোকসান হয়। এই সমস্যা কমাতে ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) প্রযুক্তিনির্ভর একটি স্বয়ংক্রিয় পেঁয়াজ সংরক্ষণ ব্যবস্থা তৈরি ও পরীক্ষা করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষক। প্রায় ৫০০ কেজি ধারণক্ষমতার ব্যবস্থাটি তৈরি ও বসাতে আনুমানিক ২৫ হাজার টাকা লাগতে পারে, আর এটি ৭-৮ বছর ব্যবহার করা যাবে বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।
ব্যবস্থাটিতে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা মাপার সেন্সর আছে, আর একটি গ্যাস সেন্সর পচনের সঙ্গে সম্পর্কিত গ্যাস শনাক্ত করে। একটি মাইক্রোকন্ট্রোলার এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনমতো ফ্যান চালু বা বন্ধ করে সংরক্ষণ কক্ষের বায়ু চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে। গবেষকেরা স্পষ্ট করেছেন, এটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা নয়; সেন্সরের তথ্যে বায়ু চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে পরিবেশ উন্নত করার প্রযুক্তি।
গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন বাকৃবির কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রোস্তম আলী। বাকৃবি রিসার্চ সিস্টেম ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) অর্থায়নে করা গবেষণাটির ফল জার্নাল অব ফুড প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।
অধ্যাপক রোস্তম আলী জানান, প্রায় ৮০ দিনের পরীক্ষায় নতুন ব্যবস্থায় মোট ওজন কমেছে ৭ দশমিক ৩১ শতাংশ, আর বাজারজাতযোগ্য পেঁয়াজ প্রচলিত পদ্ধতির ৬৮ দশমিক ২২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭৬ দশমিক ৮১ শতাংশ হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি ১০০ কেজিতে প্রায় ৮ দশমিক ৫৯ কেজি বেশি পেঁয়াজ বিক্রির উপযোগী ছিল; ৫০০ কেজিতে যা প্রায় ৪৩ কেজি। সংরক্ষণ কক্ষের তাপমাত্রা ছিল ১৮ দশমিক ৮১ থেকে ২৮ দশমিক ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৫৪ দশমিক ৩২ থেকে ৮২ দশমিক ৬০ শতাংশ। গ্যাস সেন্সর পচন শনাক্তে গড়ে প্রায় ৮৫ শতাংশ কার্যকারিতা দেখিয়েছে বলে গবেষণাপত্রে উল্লেখ আছে।
কৃষকের জন্য এর মানে, মৌসুমে দাম পড়ে গেলে পেঁয়াজ কম ক্ষতিতে ধরে রাখার একটি সস্তা উপায়। তবে গবেষক বলেছেন, প্রকৃত লাভ নির্ভর করবে পেঁয়াজের দাম ও সংরক্ষণব্যবস্থার ওপর। যন্ত্রটি প্রয়োজনে ১,০০০ কেজি ধারণক্ষমতার করেও বানানো যায়।
মাঠে নেওয়ার আগে কার্যকারিতা আরও উন্নত করা এবং বাস্তব পরিস্থিতিতে বড় পরিসরে পরীক্ষা দরকার বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক রোস্তম আলী। পেঁয়াজের পাশাপাশি আলু ও রসুনে এর কার্যকারিতা যাচাই চলছে, আর যন্ত্রটি পুরোপুরি সৌরবিদ্যুতে চালানোর কাজও চলছে। আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা পেলে এক থেকে দুই বছরের মধ্যে মাঠপর্যায়ের উপযোগী মডেল তৈরি সম্ভব বলে তিনি জানান।
ছবি: বাংলাদেশে পেঁয়াজ উৎপাদন, Shmunmun / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: এগ্রি বার্তা





মন্তব্য
(০)