শস্যবিমার প্রিমিয়াম পুরো কাউন্টির গড় দিয়ে নয়, প্রতিটি খেতের নিজের ঝুঁকি দেখে ঠিক করতে চায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্টার্টআপ। সেজ (SAGE), পুরো নাম সয়েল অ্যানালিটিক্স জিওস্পেশাল ইঞ্জিন, একটি কৃষি ঝুঁকি বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান। স্যাটেলাইটের তথ্য, মাটির তথ্য ও বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্রসহ সরকারি ও বেসরকারি নানা তথ্য মিলিয়ে তারা খামারের ঝুঁকি মাপে এবং একজন চাষির ঠিক কতটা বিমা দরকার তা হিসাব করে, জানিয়েছে এগনেভিগেটর।
এর পেছনে আছেন সিলিকন ভ্যালির অভিজ্ঞ প্রযুক্তি নির্বাহী বিল ভেগটি (Bill Veghte), যিনি ক্যারিয়ারের বড় অংশ কাটিয়েছেন মাইক্রোসফট, এইচপি ও সার্ভেমাংকিতে। বেড়ে উঠেছেন নিউ হ্যাম্পশায়ারের উত্তরে একটি খামারে। তিনি বলেন, এতদিন শস্যবিমা ঠিক হতো কাউন্টিভিত্তিক গড় দিয়ে, তাতে নির্দিষ্ট খামারের ঝুঁকি ঢাকা পড়ে যায়, ফলে চাষিকে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি টাকা দিতে হতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খেত ধরে ঝুঁকি হিসাব করে এবং খামারের তথ্য পাওয়ার কাজ দ্রুত করে সেই হিসাব বদলে দিচ্ছে। সেজের মডেল মাটি, পানি, আবহাওয়া ও মানুষের কর্মকাণ্ডের পর্যবেক্ষণ একসঙ্গে বিশ্লেষণ করে।
পেশাদার সেবা প্রতিষ্ঠান এওন (Aon) এবং বিশেষায়িত কৃষিবিমা প্রতিষ্ঠান অ্যাগ্রিক্যাপ (AgriCap)-এর সঙ্গে অংশীদারত্বের ঘোষণা দিয়েছে সেজ। ২০২৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ১৫টি অঙ্গরাজ্যের ভুট্টা ও সয়াবিন চাষিদের তারা দেবে 'প্রিসিশন ক্রপ ইনস্যুরেন্স' বা সূক্ষ্ম শস্যবিমা। এর শুরু রেজিলিয়েন্স ইন অ্যাগ্রিকালচারাল লেন্ডিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স কোয়ালিশনের (র্যালিক) সঙ্গে চার কাউন্টির একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প থেকে। মিশিগানের কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন বিভাগের অর্থায়নে চলা এই প্রকল্পে আছে ১০ লাখ একরের বেশি (প্রায় ৪ লাখ ৫ হাজার হেক্টর) জমি, যা মিশিগানের কৃষি উৎপাদনের প্রায় ১২ শতাংশ।
এওনের অ্যাগ্রিকালচার রেজিলিয়েন্স সেন্টারের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট জোনাথন শেরিল এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, "সহনশীলতা যখন চোখে দেখা যায়, তখন তার বিমা করা যায়।" প্রতিবেদনে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, উন্নত শস্যবিমা কি আরও চাষিকে পুনরুৎপাদনশীল কৃষির পদ্ধতিতে নিয়ে যেতে পারে?
সহপ্রতিষ্ঠাতা রবার্ট বনি (Robert Bonnie) ওবামা ও বাইডেন প্রশাসনের সময় এক দশকের বেশি মার্কিন কৃষি বিভাগে কাজ করেছেন। তিনি বলেন, "গত ১৫ বছরে শস্যবিমা কৃষি আইনের প্রধান সুরক্ষা হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।" তাঁর হিসাবে, এই বিমায় করদাতারা বছরে ১,৪০০ কোটি থেকে ২,০০০ কোটি ডলার ভর্তুকি দেন।
ভেগটির ধারণা, খেতভিত্তিক নতুন দাম নির্ধারণের প্রভাব পড়বে চাষি থেকে সরকার, খাদ্য কোম্পানি ও ভোক্তা সবার ওপর, শুধু যুক্তরাষ্ট্রে নয়। প্রতিবেদনটি লিখেছেন রায়ান ডেইলি।
ছবি: উত্তর-পশ্চিম মিনেসোটার কৃষিজমির ল্যান্ডস্যাট স্যাটেলাইট চিত্র, NASA Earth Observatory, Jesse Allen / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: AgNavigator





মন্তব্য
(০)