কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় মাটি পরীক্ষা করে সারের পরামর্শ দিতে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মধ্যে ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট সয়েল সেন্সর বিতরণ করা হয়েছে। যন্ত্রটি তাৎক্ষণিকভাবে মাটির বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য মেপে কৃষকের জন্য সারের পরামর্শ বাংলায় প্রিন্ট করে দিতে পারবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মতিয়র রহমান জানান, সেন্সরটি মাটির ১০টি বৈশিষ্ট্য পরিমাপ করে। সেই ফলের ভিত্তিতে মাটির পুষ্টি চাহিদা বিবেচনা করে সারের পরামর্শ তৈরি হবে, ফলে কৃষক সহজে বুঝবেন তাঁর জমিতে কোন সার কতটুকু দরকার।
উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কেনা ১৫টি সেন্সর বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ সম্মেলনকক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজ শাহীন খসরু উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার হাতে তুলে দেন। যন্ত্রগুলো উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সেবায় ব্যবহার হবে।
এ উপলক্ষে ৪০ জন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে সেন্সর চালানো, মাটির তথ্য বিশ্লেষণ এবং সারের মাত্রার প্রেসক্রিপশন তৈরি ও বিতরণের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন জিনিয়াস ফার্মস লিমিটেডের সমীরণ বিশ্বাস ও তাঁর কারিগরি দল।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, অতিরিক্ত ও অপরিকল্পিত সার উৎপাদন খরচ বাড়ায় এবং মাটির দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ক্ষতি করে; আবার কম সার দিলে ফলন কমে। মাটি পরীক্ষাভিত্তিক সার ব্যবস্থাপনা খরচ কমানো, অপচয় রোধ ও সুষম পুষ্টিতে সাহায্য করতে পারে। তবে জমির ধরন, ফসল ও মৌসুম বিবেচনায় প্রশিক্ষিত কর্মকর্তার পরামর্শে সার দেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মনে করিয়ে দেন।
কৃষকের জন্য সুবিধা হলো তাৎক্ষণিক মাটি পরীক্ষার ফল আর বাংলায় ছাপা সারের নির্দেশনা, যা উপজেলা কর্মকর্তার মতে অনুসরণ করা সহজ। প্রতিবেদনটি বার্তা২৪.কমের কুষ্টিয়া স্টাফ করেসপন্ডেন্টের।
ছবি: মাটির আর্দ্রতা মাপার সেন্সর, Christianjhart1 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)
সূত্র: বার্তা২৪





মন্তব্য
(০)