দেশে সিজারিয়ান প্রসব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অস্ত্রোপচারের পর ক্ষতস্থানে সংক্রমণও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। পুঁজ জমা, জ্বর ও তীব্র ব্যথার মতো জটিলতা দেখা দিচ্ছে বহু প্রসূতির। এর কারণ ব্যাখ্যা করেছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মেডিসিন ও সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. মেহেরিন সুলতানা।
তিনি জানান, বাংলাদেশ জনমিতি ও স্বাস্থ্য জরিপ (বিডিএইচএস) ২০২২ অনুযায়ী দেশের মোট প্রসবের ৪৫ শতাংশই এখন সিজারে হয়, যা ১৯৯৯-২০০০ সালের জরিপে ছিল মাত্র ৩ শতাংশ। বেসরকারি খাতে প্রায় ৮৩ শতাংশ প্রসব সিজারে, সরকারি কেন্দ্রে ৩৬ শতাংশ; শহরে এ হার ৫৬ শতাংশ, গ্রামে ৪০ শতাংশ।
২০২৫ সালে প্রকাশিত একটি পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণায় তিনটি সরকারি ও তিনটি বেসরকারি টারশিয়ারি হাসপাতালে সিজার হওয়া ১ হাজার ৩৩৫ জন প্রসূতিকে ৩০ দিন পর্যবেক্ষণ করা হয়। তাঁদের ১৯ দশমিক ১ শতাংশের অস্ত্রোপচার-পরবর্তী ক্ষত সংক্রমণ হয়; সরকারি হাসপাতালে হার ছিল ২১ দশমিক ৬ শতাংশ, বেসরকারিতে ১১ দশমিক ৮ শতাংশ। অস্ত্রোপচারের ৭ থেকে ১৪ দিনের মাথায় ৫৪ দশমিক ৮ শতাংশ প্রসূতির অন্তত দুটি সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দেয়।
ডা. মেহেরিন সুলতানার ব্যাখ্যায়, সব রোগী একই অবস্থায় অস্ত্রোপচারে আসেন না। কেউ পরিকল্পিত সিজারে আসেন, কেউ দীর্ঘ প্রসববেদনার পর জরুরি অবস্থায়। অনেকে আগে থেকেই ডায়াবেটিস, রক্তস্বল্পতা বা স্থূলতায় ভোগেন, অনেকের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় আগে পানি ভেঙে যায়। দীর্ঘ প্রসববেদনা, ঝিল্লি ফেটে যাওয়া, জরুরি অস্ত্রোপচার আর রোগীর শারীরিক দুর্বলতা একসঙ্গে ঝুঁকি বাড়ায়।
তবে তিনি বলেন, রোগীর জটিলতা দিয়ে হাসপাতালের দুর্বলতা আড়াল করা যাবে না। সিজারের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, অনিয়ন্ত্রিত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার এবং হাসপাতালের জীবাণুমুক্তকরণ ব্যবস্থার ঘাটতিও দায়ী। ঝুঁকি থাকা মানেই নিশ্চিত সংক্রমণ নয়; সিজারের আগে ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং ঝুঁকিপূর্ণ মায়েদের অস্ত্রোপচার-পরবর্তী নিবিড় পর্যবেক্ষণই সংক্রমণ ঠেকানোর প্রধান পথ বলে মনে করেন তিনি।
সূত্র: দিনাজপুর টিভি


মন্তব্য
(০)