অতিরিক্ত চিনি, লবণ বা স্যাচুরেটেড ফ্যাটযুক্ত অতি-প্রক্রিয়াজাত প্যাকেট খাবারের মোড়কের সামনেই স্পষ্ট সতর্কবার্তা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ফ্রন্ট-অফ-প্যাকেজ লেবেলিং (এফওপিএল) নামে পরিচিত এ ব্যবস্থায় ভোক্তাকে দীর্ঘ উপাদান তালিকা খুঁজে পড়তে হবে না।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এ জন্য ‘নিরাপদ খাদ্য (মোড়কাবদ্ধ খাদ্য লেবেলিং) প্রবিধানমালা, ২০২৬’-এর খসড়া করেছে। এতে মাত্রাতিরিক্ত চিনি, লবণ ও স্যাচুরেটেড ফ্যাটযুক্ত পণ্যে কালো অষ্টভুজাকারে বাধ্যতামূলক সতর্কবার্তার প্রস্তাব রয়েছে। গণমতামত ও পর্যালোচনার পর খসড়াটি গত ৩০ জুন চূড়ান্ত করার জন্য খাদ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে; সেখান থেকে আইন মন্ত্রণালয় ঘুরে প্রজ্ঞাপন জারি হবে।
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব বলেন, “খসড়া প্রবিধানমালাটি বর্তমানে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। আইন মন্ত্রণালয় আইন চূড়ান্ত করে দিলে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ প্রজ্ঞাপন জারি করবে। সব প্রক্রিয়া শেষে এটি দ্রুতই চূড়ান্ত হবে বলে আমরা আশাবাদী।”
প্রতিবেদনে উদ্ধৃত তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ১ কোটি ৩৯ লাখ মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, প্রতি চারজন প্রাপ্তবয়স্কের একজন উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন এবং বছরে প্রায় ২ লাখ ৮৩ হাজার মানুষ হৃদ্রোগজনিত অসুস্থতায় মারা যান। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের ৯৭ শতাংশ মানুষ সপ্তাহে অন্তত একবার অতি-প্রক্রিয়াজাত প্যাকেট খাবার খান, আর এসব খাবারের ৬৩ শতাংশে উচ্চমাত্রার লবণ বা সোডিয়াম পাওয়া গেছে।
চিলি, মেক্সিকো ও উরুগুয়েসহ ৪৪টি দেশে ফ্রন্ট-অফ-প্যাকেজ লেবেলিংয়ের কোনো না কোনো ব্যবস্থা আছে; এর মধ্যে ১০টি দেশে সতর্কবার্তাসহ এফওপিএল বাধ্যতামূলক।
জনস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা সংগঠন প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের বলেন, “এফওপিএল প্রবিধান দ্রুত চূড়ান্ত করা এখন জনস্বাস্থ্যের অগ্রাধিকার। ভোক্তাদের জানার অধিকার এবং সচেতনভাবে খাদ্য বেছে নেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকারকে শক্তিশালী ও বাধ্যতামূলক সতর্কতামূলক লেবেল চালু করতে হবে।” বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ব্যবস্থা খাদ্য উৎপাদকদেরও পণ্যে চিনি, লবণ ও চর্বি কমাতে উৎসাহিত করবে।
সূত্র: প্রতিদিনের সংবাদ


মন্তব্য
(০)