আন্তর্জাতিক বাজারে দাম টনপ্রতি ৩৬০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় ভারত শতভাগ খুদ চাল (ভাঙা চাল) রপ্তানিতে আবার বিধিনিষেধ দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে ইন্ডিয়ান রাইস এক্সপোর্টার্স ফেডারেশন আইআরইএফ (IREF)। বিদেশি ক্রেতা আর ইথানল ও পোলট্রি খাদ্য প্রস্তুতকারকসহ দেশি শিল্পের মধ্যে প্রতিযোগিতাকে এর কারণ বলছে সংগঠনটি। বার্তা সংস্থা পিটিআইয়ের বরাতে ইকোনমিক টাইমস এ খবর দিয়েছে। এখনো নতুন কোনো বিধিনিষেধ ঘোষণা হয়নি।
দেশের বাজারেও দাম বাড়ছে। ভারতের ভোক্তা বিষয়ক বিভাগের হিসাবে খুদ চালের সর্বভারতীয় গড় পাইকারি দাম ১০ অক্টোবরের কুইন্টালপ্রতি ২,৮৮৩ রুপি থেকে ৫.৩ শতাংশ বেড়ে ২ নভেম্বর ৩,০৩৬ রুপিতে উঠেছে। খুদ চালের পাইকারি মূল্যস্ফীতি আগস্টের ৪.৩৭ শতাংশ থেকে সেপ্টেম্বরে বেড়ে ৫.৩৮ শতাংশ হয়েছে।
আইআরইএফের মহাপরিচালক বিনোদ কৌল (Vinod Kaul) বলেন, খুদ চাল এখন ইথানল উৎপাদন, পোলট্রি খাদ্যসহ নানা শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল। এই প্রবণতা চলতে থাকলে রপ্তানিতে বিধিনিষেধের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ভারতের ইথানল মিশ্রণ কর্মসূচিতে খুদ চাল, ভুট্টা আর ফুড করপোরেশন অব ইন্ডিয়ার উদ্বৃত্ত চালের মতো শস্যের চাহিদা বেড়েছে। ডিস্টিলারিগুলো খোলাবাজার থেকেও কেনে, ফলে পোলট্রি খাদ্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারকদের সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতা হচ্ছে।
আগেও এমন হয়েছে। দেশের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগে ভারত ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে খুদ চাল রপ্তানি নিষিদ্ধ করে, যা ২০২৫ সালের ৭ মার্চ পর্যন্ত বহাল ছিল। সামগ্রিক সরবরাহ অবশ্য স্বস্তির: ২০২৫-২৬ সালে চালের উৎপাদন রেকর্ড ১৫ কোটি ৪০ লাখ ২০ হাজার টন ধরা হয়েছে, আগের বছর ছিল ১৫ কোটি ১ লাখ ৮০ হাজার টন, আর অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছে প্রায় ২ কোটি ১৫ লাখ ৭০ হাজার টন। কিন্তু চাল ভাঙানোর সময় তৈরি হওয়া খুদ চালের চাহিদা-জোগান আলাদা। ২০২৭ সালে পাঁচ রাজ্যে নির্বাচনের কারণে খাদ্যের দাম নিয়ে সরকারের মনোযোগ বাড়তে পারে বলেও উল্লেখ করেছে আইআরইএফ।
সংগঠনটি রপ্তানিকারকদের আগাম চুক্তিতে সাবধান থাকতে এবং দেশের দাম, চালকল থেকে আসা সরবরাহ ও ইথানলের চাহিদার দিকে নজর রাখতে পরামর্শ দিয়েছে। সরকারকে কোনো পদক্ষেপের আগে শিল্পের সঙ্গে আলোচনা করতে এবং চলমান চুক্তি, ঋণপত্র ও প্রতিশ্রুত চালান সুরক্ষার ব্যবস্থা রাখতে আহ্বান জানিয়েছে তারা।
কৌল বলেন, যেকোনো হস্তক্ষেপে দেশের প্রয়োজনের সঙ্গে কৃষক, চালকলমালিক ও রপ্তানিকারকদের স্বার্থের ভারসাম্য রাখতে হবে। নির্ভরযোগ্য চাল সরবরাহকারী হিসেবে ভারতের আস্থা ধরে রাখতে পূর্বানুমেয় নীতি আর চলমান প্রতিশ্রুতির সুরক্ষা জরুরি।
প্রতিবেদনটি পিটিআইয়ের, প্রকাশ করেছে ইকোনমিক টাইমস।
ছবি: McKay Savage / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: ইকোনমিক টাইমস





মন্তব্য
(০)