আফ্রিকান গ্রোথ অ্যান্ড অপরচুনিটি অ্যাক্ট বা এগোয়া (AGOA) থেকে দক্ষিণ আফ্রিকাকে বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির কৃষি সংগঠনগুলো সরকারকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে, তবে একই সঙ্গে বলেছে, অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা হারালেও মার্কিন বাজার দক্ষিণ আফ্রিকার পণ্যের জন্য বন্ধ হয়ে যাবে না। ফার্মার্স উইকলি এ খবর দিয়েছে।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার (Jamieson Greer) ২ নভেম্বর জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেস এবং দক্ষিণ আফ্রিকা ও রুয়ান্ডার সরকারকে দুই দেশের অংশগ্রহণ বাতিলের ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, দুই সরকার এগোয়ার যোগ্যতার শর্তের সঙ্গে অসংগত আচরণ করছে। যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ আফ্রিকায় মার্কিন বাণিজ্য ও বিনিয়োগে বাধা, দুর্নীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির স্বার্থে হুমকির কথা উল্লেখ করেছে।
কৃষি ব্যবসায়ী সংগঠন অ্যাগবিজের প্রধান অর্থনীতিবিদ ও কৃষি বিষয়ে প্রেসিডেন্টের দূত ওয়ান্ডিলে সিহলোবো (Wandile Sihlobo) বলেন, এগোয়া হারালে যেসব পণ্য এত দিন শুল্কমুক্ত ছিল, সেগুলোতে সাধারণ এমএফএন শুল্ক বসবে, অন্য মার্কিন শুল্কের সঙ্গে যোগ হয়ে। তাঁর হিসাবে গড়ে প্রায় ৩.৪ শতাংশীয় পয়েন্ট শুল্ক বাড়বে; যেমন কিছু কৃষিপণ্যে এখনকার ১২.৫ শতাংশ শুল্ক ১৫.৯ শতাংশে উঠতে পারে। কৃষক সংগঠন অ্যাগ্রিএসএ বলেছে, প্রভাব পণ্যভেদে আলাদা হবে, তাই রপ্তানিকারকদের শুল্ক শ্রেণি, ছাড়, কার্যকর হওয়ার তারিখ আর চুক্তিবদ্ধ বা পথে থাকা চালান নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দরকার।
সিহলোবোর হিসাবে ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষিণ আফ্রিকার কৃষিপণ্য রপ্তানি ছিল ৫০ কোটি ৪০ লাখ ডলার (প্রায় ৯০০ কোটি র্যান্ড), আগের বছরের চেয়ে ৩ শতাংশ কম, যা দেশটির মোট কৃষি রপ্তানির প্রায় ৪ শতাংশ। প্রধান পণ্য লেবুজাতীয় ফল, বেরি, আঙুর, কিশমিশ, ওয়াইন, ফলের রস, আপেল, নাশপাতি, এপ্রিকট ও বাদাম। ২০২৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে সাময়িক শুল্কছাড়ের সময় কিছু রপ্তানিকারক তাড়াহুড়া করে চালান পাঠানোর পর তৃতীয় প্রান্তিকে রপ্তানি বছরওয়ারি ১১ শতাংশ কমে ১৪ কোটি ৪০ লাখ ডলারে নামে, চতুর্থ প্রান্তিকে আরও ৩৯ শতাংশ কমে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলারে।
অ্যাগ্রিএসএ সতর্ক করেছে, বাজারে প্রবেশ থাকলেই প্রত্যেক রপ্তানিকারক লাভে থাকবেন, এমন নয়। বাজার পুরো বন্ধ হওয়ার ভবিষ্যদ্বাণী বা প্রভাব নগণ্য হওয়ার আশ্বাস, কোনোটিই আলাদা আলাদা শিল্পের প্রকৃত অবস্থা বোঝায় না। ফল রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল প্যাকহাউস শ্রমিক ও গ্রামীণ অর্থনীতিও ঝুঁকিতে আছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
প্রতিবেদনটি লিখেছেন ফার্মার্স উইকলির হানলি দু প্লেসি।
ছবি: Royal Charles Steadman / উইকিমিডিয়া কমন্স (Public domain)
সূত্র: ফার্মার্স উইকলি সাউথ আফ্রিকা





মন্তব্য
(০)