ব্রয়লার আর ডিমপাড়া মুরগির মধ্যে বেছে নেওয়ার কাজ শুরু হওয়া উচিত ক্রেতাকে দিয়ে, মুরগিকে দিয়ে নয়। এমনটাই বলেছেন প্রাণিসম্পদ সেবা প্রতিষ্ঠান C4 Africa (সি৪ আফ্রিকা)-র পোলট্রি বিশেষজ্ঞ ড. Neil Duncan (নিল ডানকান)। ফার্মার্স উইকলি সাউথ আফ্রিকায় লিন্ডি বোথার প্রতিবেদনে তাঁর পরামর্শ তুলে ধরা হয়েছে।
"সবাই ব্রয়লারে নামতে চায়, কারণ ভাবে এটা দ্রুত টাকা," বলেন ডানকান। নতুন খামারিকে জানতে হবে বাজার কোথায়, ক্রেতা কারা, প্রতিযোগী কারা এবং ক্রেতা কেন তাঁর কাছ থেকেই কিনবেন। এসব প্রশ্নের উত্তর না থাকলে খামার ব্যর্থ হতে বাধ্য। দেশটির কৃষি গবেষণা পরিষদ (এআরসি)-ও একই কথা বলে: উৎপাদনের আগে নির্ভরযোগ্য বাজার ঠিক করুন।
ব্রয়লারে দেরির সুযোগ কম। ডানকানের হিসাবে প্রায় ৩৫ দিনের পর অবিক্রীত মুরগি লাভ খেয়ে ফেলতে শুরু করে। তাই আগেভাগেই ঠিক করতে হবে জীবিত মুরগি, জবাই করা আস্ত মুরগি নাকি টুকরো মাংস বিক্রি হবে; শেষ দুটির জন্য লাগে হিমায়ন, কোল্ড চেইন আর ফাঁকা সময় থাকা কসাইখানা। অনানুষ্ঠানিক মুরগির বাজার ৩,০০০ কোটি র্যান্ডের, এমন কথা কোনো একজন খামারির মুরগির চাহিদা প্রমাণ করে না বলেও সতর্ক করেন তিনি। ডিম উৎপাদকদেরও জানতে হবে ক্রেতা গ্রেড করা ডিম চান কি না, আর ৬, ১২, ১৮টির প্যাকেট নাকি ৩০টির ট্রে।
নগদ টাকার চক্রও আলাদা। এআরসির তথ্য অনুযায়ী বাচ্চা মুরগিকে প্রায় ১৮ সপ্তাহ পালনের পর ডিমপাড়া ঘরে তোলা হয়, প্রথম ছোট ডিম আসে প্রায় ২১ সপ্তাহে। ফলে লেয়ার খামারিকে আয় শুরুর আগে কয়েক মাস খরচ বহন করতে হয়। পোলট্রি উৎপাদন খরচের ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত যায় খাদ্যে। ওয়েস্টার্ন কেপ কৃষি বিভাগের ২০২৩ সালের দামে ৯,৪৯০টি খাঁচার লেয়ারের বাজেটে খাদ্যে ধরা হয়েছে প্রায় ৩৮ লাখ ১০ হাজার র্যান্ড, আর ১০ হাজার ডিমপাড়ার উপযোগী পুলেটে ১৩ লাখ ৮০ হাজার র্যান্ড।
ডানকানের মতে খাদ্যের মান কমিয়ে খরচ বাঁচানো আসলে সাশ্রয় নয়, কারণ আধুনিক জাতের মুরগি সঠিক পুষ্টি ছাড়া সামর্থ্য দেখাতে পারে না। কিছু ব্যয়বহুল ভুল হয় প্রথম বাচ্চা আসার আগেই: প্রাকৃতিক বায়ুচলাচলের ঘর পূর্ব-পশ্চিমমুখী হলে ভেতরে বেশি ছায়া থাকে, উত্তর-দক্ষিণমুখী ঘর অতিরিক্ত গরম হতে পারে। বেশি গরমে মুরগি কম খায়, বাড়েও ধীরে।
তিনি বলেন, জৈবনিরাপত্তা শুরু থেকেই ব্যবস্থার অংশ হতে হবে, কারণ বার্ড ফ্লুর মতো রোগ ঢুকলে পুরো খামার শেষ হয়ে যেতে পারে। এআরসির পরামর্শের মধ্যে আছে দর্শনার্থী সীমিত রাখা, গাড়ি ও সরঞ্জাম জীবাণুমুক্ত করা, ফুটবাথ, অসুস্থ মুরগি আলাদা রাখা এবং প্রতিটি ব্যাচের পর ঘর ভালোভাবে পরিষ্কার করা।
কোনো নির্দিষ্ট খামারের আকারে দুটির কোনোটিই আপনাআপনি লাভজনক হয় না। "কাগজে হিসাব ভালো দেখাতে পারে," বলেন ডানকান, "কিন্তু বাস্তবে ব্যবসা চালাতে আরও অনেক কিছু লাগে।"
ছবি: USDA / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: ফার্মার্স উইকলি সাউথ আফ্রিকা





মন্তব্য
(০)