নারীদের ক্যানসারজনিত মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ স্তন ক্যানসার। তবে সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় ও সঠিক চিকিৎসা হলে এটি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য বলে আজকের পত্রিকায় লিখেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. কাকলী হালদার। লজ্জা, সচেতনতার অভাব ও সামাজিক সংকোচে অনেকে শেষ পর্যায়ে চিকিৎসকের কাছে যান, যা জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলে।
অক্টোবর বিশ্বজুড়ে স্তন ক্যানসার সচেতনতা মাস, ‘পিংক অক্টোবর’, যার প্রতীক গোলাপি ফিতা। লেখায় বলা হয়েছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘এভরি স্টোরি ইজ ইউনিক, এভরি জার্নি ম্যাটার্স’, অর্থাৎ প্রতিটি গল্প অনন্য, প্রতিটি যাত্রাই গুরুত্বপূর্ণ।
চিকিৎসকের তালিকায় প্রধান লক্ষণ: স্তনে বা বগলে ব্যথাসহ বা ব্যথা ছাড়া শক্ত চাকা বা পিণ্ড; স্তনের আকার, আকৃতি বা ত্বকের রঙে অস্বাভাবিক পরিবর্তন কিংবা ত্বকে টোল পড়া; স্তনবৃন্ত ভেতরে দেবে যাওয়া বা সেখান থেকে রক্ত বা অস্বাভাবিক তরল বের হওয়া। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, সব চাকা ক্যানসার নয়, তবে যেকোনো পরিবর্তনে অবহেলা না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।
জিনগত ও বংশগত কিছু ঝুঁকি থামানো না গেলেও জীবনযাপনে পরিবর্তনে আশঙ্কা কমানো যায়: ওজন নিয়ন্ত্রণ ও স্বাস্থ্যকর বিএমআই, প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট কায়িক পরিশ্রম বা ব্যায়াম, বেশি শাকসবজি, ফল ও আঁশযুক্ত খাবার, প্রক্রিয়াজাত ও অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার এড়ানো, ধূমপান ও মদ্যপান পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়া এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি হরমোন থেরাপি না নেওয়া।
স্ক্রিনিংয়ের পরামর্শ: ২০ বছর বয়স থেকে প্রতি মাসে অন্তত একবার পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর নিজের স্তন নিজে পরীক্ষা; বছরে অন্তত একবার অভিজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে ক্লিনিক্যাল ব্রেস্ট এক্সামিনেশন; ৪০ বছর বা তার বেশি বয়সে চিকিৎসকের পরামর্শে প্রতি ১ থেকে ২ বছর পর ম্যামোগ্রাম। পরিবারে স্তন ক্যানসারের ইতিহাস থাকলে আরও আগে থেকেই স্ক্রিনিং বা এমআরআই জরুরি।
ডা. কাকলী হালদারের ভাষায়, ক্যানসার অভিশাপ নয়, একটি ব্যাধি, যার চিকিৎসা আছে। পরিবারকে রোগীর পাশে সহমর্মিতা নিয়ে দাঁড়াতে হবে, আর ঘরের নারীদের স্বপরীক্ষা ও নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ে উৎসাহ দিতে হবে।
ছবি: ম্যামোগ্রাম পরীক্ষা, Bill Branson, National Cancer Institute / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: আজকের পত্রিকা





মন্তব্য
(০)