যশোরের মনিরামপুর উপজেলার মুন্সিখানপুরের মাসুদুর রহমান, পেশায় কমিউনিটি ক্লিনিকের হেলথ প্রোভাইডার, কিডনি বিকল হয়ে সপ্তাহে দুবার ডায়ালাইসিস নিচ্ছেন। চিকিৎসকদের পরামর্শে কিডনি প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে, দাতা হতে রাজি তাঁর মা। ক্রস-ম্যাচসহ প্রায় সব পরীক্ষা শেষ, কিন্তু দাতার উপযুক্ততা যাচাইয়ের একটি পরীক্ষায় আটকে আছে পুরো প্রক্রিয়া।
তাঁর ছোট ভাই সাংবাদিক নূরে আলম সিদ্দিকী জুয়েল শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে ফেসবুকে এক ভিডিও বার্তায় জানান, পরীক্ষাটির নাম ‘ডিটিপিএ রেনোগ্রাম উইথ স্প্লিট ফাংশন অ্যান্ড জিএফআর’। তাঁর ভাষ্য, দাতার এই পরীক্ষা জাতীয় কিডনি রোগ ও ইউরোলজি ইনস্টিটিউটের সংশ্লিষ্ট সেবার মাধ্যমে করাতে হয়, কিন্তু দেশে এখন কোথায় তা করা যায়, সরকারি-বেসরকারি নানা হাসপাতালে খোঁজ নিয়েও নিশ্চিত তথ্য পাননি। কবে নাগাদ করা যাবে, সেটিও কেউ বলতে পারছেন না।
জুয়েল বলেন, এটি রক্ত বা প্রস্রাবের নমুনা পরীক্ষা নয়, দাতাকে সরাসরি উপস্থিত থাকতে হয়; তাই নমুনা বিদেশে পাঠানোর বিকল্পও নেই। পূজার ছুটির আগে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েও তিনি কোনো নিশ্চিত তথ্য পাননি, সেখানে একই পরীক্ষার অপেক্ষায় ৮-৯ বছরের এক শিশুর চিকিৎসাও আটকে আছে বলে তিনি জানান।
দুই-তিন মাস ধরে পরিবারটি কঠিন সময় পার করছে। ডায়ালাইসিসের পাশাপাশি একটানা ওষুধ চলছে। জুয়েল বলেন, পরীক্ষাটি করানো গেলে প্রতিস্থাপনের পরের ধাপে যাওয়া সহজ হতো।
নিজের পরিবার ও একই সমস্যায় থাকা অন্য রোগীদের কথা ভেবে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে জরুরি ভিত্তিতে পরীক্ষাটির ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, দেশের বাইরে গিয়ে চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য সবার নেই, তাই প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসা দেশেই নিশ্চিত করা জরুরি।
ছবি: ডায়ালাইসিস চলছে, Dan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0); প্রতীকী ছবি
সূত্র: আর টিভি অনলাইন





মন্তব্য
(০)