ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারে যমজ ছেলের জন্ম দেওয়ার পর প্রয়োজনীয় সব ওষুধ, স্যালাইন এমনকি গ্লাভসও নিজের টাকায় কিনতে হয়েছে শিউলি আক্তারকে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন হাসপাতালে ঝটিকা পরিদর্শনে গেলে তিনি এ অভিযোগ করেন। দুঃখ প্রকাশ করে মন্ত্রী স্যালাইন কেনার জন্য তাঁর হাতে এক হাজার টাকা দেন।
সদর উপজেলার শিকারিকান্দা গ্রামের শিউলি আক্তার বলেন, ভর্তির পর সরকারিভাবে কোনো ওষুধ পাননি। টাকা পেয়ে খুশি হলেও তাঁর প্রত্যাশা, হাসপাতালের সেবা উন্নত হোক এবং সব রোগী যথাযথ চিকিৎসা পান।
এর আগে সকালে ফুলপুর ও তারাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। ফুলপুরে পাঁচ চিকিৎসককে অনুপস্থিত পেয়ে তাঁদের এক দিনের বেতন কাটার নির্দেশ দেন। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি চিকিৎসকদের ডিজিটাল ও হাতে লেখা হাজিরা দেখেন, প্রসূতি, ডেঙ্গু ও হাম ওয়ার্ডে রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন, খাবারের মান ও শৌচাগারের অবস্থাও দেখেন।
সাংবাদিকদের মন্ত্রী বলেন, অনেক চিকিৎসককে অনুপস্থিত পাওয়া গেছে; রোস্টার মিলিয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, দেরিতে আসা চিকিৎসকদের বিরুদ্ধেও। তবে ডেঙ্গু ওয়ার্ডের মশারি ও সার্বিক পরিবেশ তুলনামূলক ভালো পেয়েছেন। সিটি করপোরেশনের ভাগাড়ে হাসপাতালের মেয়াদ থাকা বাটারফ্লাই, ইনজেকশন, সিরিঞ্জ ও ক্যানুলা পড়ে থাকায় তিনি পরিচালককে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলেছেন; পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাকির হোসেন তদন্ত কমিটি করার কথা জানিয়েছেন।
মন্ত্রী জানান, আগামী সপ্তাহের মধ্যে ফুলপুর ও ময়মনসিংহ মেডিকেলে চিকিৎসক ও জনবলের সংকট দূর করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফুলপুর ও তারাকান্দাকে ১৫১ শয্যার হাসপাতালে রূপান্তর করা হবে, যেখানে ডায়ালাইসিস, ফিজিওথেরাপি এবং মা ও শিশুর জন্য আলাদা শয্যা থাকবে; তারাকান্দায় ইনডোর সেবা চালুর উদ্যোগও নেওয়া হবে।
সরকারি হাসপাতালের এক কিলোমিটারের মধ্যে নতুন কোনো অবৈধ ক্লিনিক অনুমোদন পাবে না, বিদ্যমান ক্লিনিকের কমপ্লায়েন্স ও লেবার রুম তদারক করা হবে এবং দালাল চক্র ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। গত ১৪ সেপ্টেম্বর হাসপাতালের নতুন ভবনের লিফটে অগ্নিকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়েছে, পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিবেদনটি প্রথম আলোর ময়মনসিংহের নিজস্ব প্রতিবেদকের।
ছবি: রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি ওয়ার্ড, Nahid Hossain / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0); প্রতীকী ছবি
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)