বগুড়ায় জৈব সার উৎপাদন আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। কৃষি বিভাগের হিসাবে গত অর্থবছরে জেলায় ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬০৭ টন জৈব সার তৈরি হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ১৭২ কোটি টাকা। গোবর, গাছের পাতা, খড়কুটো আর গৃহস্থালির বর্জ্য দিয়ে তৈরি এই সার স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে দেশের নানা প্রান্তে। এ খাতে সরাসরি কাজ পেয়েছেন অন্তত ৭০০ জন।
মোট উৎপাদনের মধ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় তৈরি হয়েছে ১৪ হাজার ৮৯ টন, নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলো করেছে ২৪ হাজার ১৩০ টন, আর বাকি ২ লাখ ৭ হাজার ৩৮৮ টন এসেছে অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তার হাত থেকে।
শেরপুরের উদ্যোক্তা সুরাইয়া ফারহানা রেশমা প্রায় শূন্য থেকে এ কাজ শুরু করেছিলেন। এখন তাঁর সম্পদ ২ কোটি টাকার বেশি, প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন ১৫ জন। দেশের বিভিন্ন এলাকার অন্তত ৭০০ উদ্যোক্তা তাঁর কাছ থেকে জৈব সার তৈরির প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।
বগুড়া সদরের বাঘোপাড়ার বিরতি খাতুন ও রাশেদুল ইসলাম রূপম দম্পতি আট বছর আগে পারিবারিক নার্সারির প্রয়োজনে মাত্র ৩০ হাজার টাকায় সার তৈরি শুরু করেন। এখন নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে মাসে অন্তত ৫ লাখ টাকার সার বিক্রি করেন, কাজ করেন আরও ২০ জন। বিরতি খাতুন জানান, নার্সারিতে রাসায়নিক সারে মাটির ক্ষতি দেখে তাঁরা জৈব সারের দিকে যান; সবজির খোসা, পাতা, খড় আর মুরগির বিষ্ঠা দিয়ে এখন ভার্মি কম্পোস্ট ও ট্রাইকো কম্পোস্ট, দুই ধরনের সার তৈরি করেন।
ব্যক্তি উদ্যোগের পাশাপাশি জেলায় গড়ে উঠেছে বাণিজ্যিক খাতও। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক দশক ধরে বগুড়ায় জৈব সার তৈরি হচ্ছে, বাণিজ্যিক উৎপাদন বেশি সদর, শেরপুর, সারিয়াকান্দি, শিবগঞ্জ ও গাবতলীতে। জেলায় নিবন্ধিত সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সাতটি, আর ছোট-বড় প্রায় ১৫০ জন উদ্যোক্তা এ কাজে যুক্ত।
উদ্যোক্তারা যেমন লাভ করছেন, তেমনি স্থানীয় চাষিরাও এই সার ব্যবহার করে ফসল ও সবজির ভালো ফলন পাচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি পাঠিয়েছেন কৃষি সময়ের বগুড়া সংবাদদাতা।
ছবি: তথ্য অধিদপ্তর (পিআইডি) / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: কৃষি সময়




মন্তব্য
(০)