দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ ছাতইল গ্রামের জুয়েল ইসলাম লিজ নেওয়া ৭০ শতক জমিতে পেঁপে চাষ করে প্রথম বছরেই এক লাখ ৮০ হাজার টাকার পেঁপে বিক্রি করেছেন। বাগানে এখন ৭০০টির বেশি গাছ, আর বাকি ফল বিক্রি করে আরও পাঁচ লাখ টাকার বেশি পাওয়ার আশা করছেন তিনি ও তাঁর দুই সঙ্গী, জানিয়েছে জাগো নিউজ ২৪।
জুয়েল জানান, ২০১৯ সালের দিকে দেশে কাজের সুযোগ কম থাকায় অবৈধ পথে ভারতে গিয়ে পাথর ভাঙার কাজ করতেন। প্রায় তিন বছর পর ফিরে কৃষিতে নামার সিদ্ধান্ত নেন। সঙ্গে নেন একই গ্রামের রংমিস্ত্রি মুসাদ্দেক ইসলাম (২১) ও মমিনুল ইসলাম (৩৮), সারা বছর রঙের কাজ না থাকায় যাঁরা বিকল্প আয় খুঁজছিলেন।
বাগানে শাহী জাতের পেঁপে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে রাণীগঞ্জ থেকে চারা এনে লাগানো হয়, প্রায় আট মাস পর ফল আসতে শুরু করে। বাগানের বয়স এখন প্রায় ১০ মাস; কাঁচা ও পাকা দুই রকম পেঁপেই বিক্রি হচ্ছে।
জুয়েলের হিসাবে ৭০ শতকে উৎপাদন খরচ হয়েছে প্রায় দুই লাখ টাকা, অর্থাৎ এখন পর্যন্ত বিক্রি খরচের প্রায় কাছাকাছি। বাকি ফলন আর বাজারদরের ওপর নির্ভর করবে চূড়ান্ত আয়। জুয়েল বলেন, অবৈধ পথে বিদেশে না গিয়ে দেশে কাজ করা অনেক ভালো, একা না পারলে দুই-তিনজন মিলে উদ্যোগ নেওয়া যায়।
প্রতিবেশী কৃষক আনোয়ার হোসেন জানান, তিন যুবকের বাগান দেখে এলাকার অনেকে পেঁপে চাষে আগ্রহী হয়েছেন, তিনিও এবার বাগান করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
বোচাগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নয়ন কুমার সাহা বলেন, পেঁপে লাভজনক ফসল; সঠিক জাত, নিয়মিত পরিচর্যা আর রোগবালাই দমন করতে পারলে ভালো ফলন ও আয় সম্ভব। কাঁচা ও পাকা দুভাবেই বিক্রি করা যায় বলে চাষি বাজারের চাহিদা বুঝে পণ্য ছাড়তে পারেন।
ছবি: Valugi / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪





মন্তব্য
(০)