বিদেশে যে জিন বিশ্লেষণ পরীক্ষার খরচ দেড় লাখ টাকা বা তার বেশি, ঢাকার বারডেম জেনারেল হাসপাতালে এখন তা ১২ হাজার থেকে ৬৫ হাজার টাকায় করা যাচ্ছে। ফলে কম খরচে দেশেই ক্যানসারের জিনগত বৈশিষ্ট্য আর সুনির্দিষ্ট চিকিৎসার ধরন জানার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বারডেমের অণু-পরীক্ষা গবেষণাগারে যুক্তরাষ্ট্রের ইলুমিনার মাইসিক ও নেক্সটসিক ৫৫০ যন্ত্রে একসঙ্গে বহু জিন বিশ্লেষণ করে ক্যানসারসংশ্লিষ্ট পরিবর্তন বা মিউটেশন শনাক্ত করা হচ্ছে। আমার দেশের প্রতিবেদককে গবেষণাগার ঘুরে দেখান হাসপাতালের প্রধান গবেষণা কর্মকর্তা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোহরাব আলম। তাঁর ভাষায়, প্রচলিত পদ্ধতিতে একটি নির্দিষ্ট জিন দেখা হয়, নতুন প্রযুক্তিতে একসঙ্গে অনেক জিন, যা রোগীর চিকিৎসা পরিকল্পনায় সাহায্য করে।
বারডেমের তথ্যে, সেখানে এখন ১৪০টি জিনের পরিবর্তন পরীক্ষা করা যায়: ১১১টি জিনের ডিএনএ ও ২৯টির আরএনএ। স্তন ক্যানসারে বিআরসিএ-১, বিআরসিএ-২, পিআইকে৩সিএ, টিপি৫৩ ও এটিএমসহ নানা জিন, ডিম্বাশয়ের ক্যানসারে বিআরসিএ-১, বিআরসিএ-২, আরএডি৫১সি ও বিআরআইপি-১, আর ফুসফুসের ক্যানসারে ইজিএফআর, বিআরএএফ, কেআরএএস, এমইটি, এএলকে, আরওএস-১ ও আরইটি পরীক্ষা হয়। পাকস্থলী, খাদ্যনালি, বৃহদন্ত্র, যকৃৎ, অগ্ন্যাশয়, ত্বক ও মস্তিষ্কের ক্যানসারের জিনও আওতায় আছে।
অধ্যাপক সোহরাব আলম ব্যাখ্যা করেন, একই অঙ্গের ক্যানসার হলেও রোগীভেদে জিনগত বৈশিষ্ট্য আলাদা হতে পারে। পরীক্ষায় তা ধরা পড়লে চিকিৎসকেরা নির্দিষ্ট জিনের পরিবর্তনকে লক্ষ্য করে ওষুধ বাছতে পারেন, যাকে লক্ষ্যভিত্তিক চিকিৎসা বলে। এতে ওষুধে সাড়া পাওয়ার সম্ভাবনা, ওষুধপ্রতিরোধ, বংশগত ঝুঁকি এবং চিকিৎসার পরও শরীরে ক্যানসার কোষ থেকে গেছে কি না, তাও বোঝা যায়। স্তন ও ডিম্বাশয়ের বংশগত ঝুঁকি দেখতে বিআরসিএ-১ ও ২ এবং ডিএনএ মেরামতের সঙ্গে যুক্ত ২৭টি জিনের পরীক্ষাও আছে।
বিদেশে নমুনা পাঠিয়ে প্রতিবেদন পেতে ১৫ দিন থেকে এক মাস লাগে বলে জানান তিনি; দেশে পরীক্ষায় টাকা, সময় আর যাতায়াতের ভোগান্তি বাঁচবে। পরীক্ষায় রোগীর টিস্যু বা প্রয়োজনে রক্ত লাগে, টিস্যুর ক্ষেত্রে আগের পরীক্ষার প্রতিবেদনসহ পর্যাপ্ত নমুনা দরকার; হাসপাতাল জানিয়েছে, নমুনা প্রস্তুতে বাড়তি খরচ নেওয়া হয় না। গবেষণাগারের জন্য আইএসও ১৫১৮৯:২০২২ মানসনদ নেওয়ার পরিকল্পনা আছে।
বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির (বাডাস) মহাসচিব মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন বলেন, দেশে উন্নত পরীক্ষার সুযোগ না থাকায় অনেক রোগীকে ভারতে যেতে হয়; সুবিধা বাড়লে বিদেশমুখিতা কমবে, বৈদেশিক মুদ্রাও বাঁচবে। মানসনদ পেতে ছয় মাস থেকে এক বছর লাগতে পারে বলে জানান তিনি। বারডেমের নিজস্ব ক্যানসার হাসপাতাল নির্মাণেরও পরিকল্পনা রয়েছে।
ছবি: Konrad Förstner / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)
সূত্র: আমার দেশ





মন্তব্য
(০)